ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরাকের তেল বিক্রির অর্থের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, সেনা প্রত্যাহারেও প্রভাব অব্যাহত

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০১:০৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০৩ Time View

যুক্তরাষ্ট্র বুধবার ইরাকের সর্বশেষ ঘাঁটিগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর এই পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনার মৃত্যুর পরিসমাপ্তি ঘটছে। ইরান ও তাদের মিত্ররা এই সেনা প্রত্যাহারকে নিজেদের বিজয় হিসেবে উদ্‌যাপন করছে।

তবে, ২০০৩ সালে ইরাকের ওপর আগ্রাসনের পর থেকেই দেশটির তেল বিক্রির অর্থ কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ পরিচালনার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, যা বাগদাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘কোয়ালিশন প্রভিশনাল অথরিটি’ (সিপিএ) গঠনের পর ‘ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর ইরাক’ (ডিএফআই) প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই তহবিলের উদ্দেশ্য ছিল তেল বিক্রির রাজস্ব জমা রাখা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন ও উন্নয়নকাজে ব্যয় করা।

ইরাকের জাতীয় বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে তেল খাত থেকে। ফলে তেল রাজস্বের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ইরাকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ২০২০ সালে ইরাক সরকার মার্কিন সেনাদের দেশ ছাড়ার আহ্বান জানালে নিউ ইয়র্ক ফেডে থাকা তহবিলে প্রবেশাধিকার বন্ধের হুমকি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

বর্তমানে ইরাকের তেল বিক্রির পুরো অর্থ নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের হেফাজতে রয়েছে। ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিআই) স্থানীয় বাজারে ডলার সরবরাহের জন্য ‘ডলার নিলাম’ ব্যবস্থা পরিচালনা করত, তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ২০২৫ সালের শুরুতে এই ব্যবস্থা বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় বাস চলাচল আবারও বন্ধ, যাত্রীরা দুর্ভোগে

ইরাকের তেল বিক্রির অর্থের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, সেনা প্রত্যাহারেও প্রভাব অব্যাহত

আপলোড সময় : ০১:০৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র বুধবার ইরাকের সর্বশেষ ঘাঁটিগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর এই পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনার মৃত্যুর পরিসমাপ্তি ঘটছে। ইরান ও তাদের মিত্ররা এই সেনা প্রত্যাহারকে নিজেদের বিজয় হিসেবে উদ্‌যাপন করছে।

তবে, ২০০৩ সালে ইরাকের ওপর আগ্রাসনের পর থেকেই দেশটির তেল বিক্রির অর্থ কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ পরিচালনার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, যা বাগদাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘কোয়ালিশন প্রভিশনাল অথরিটি’ (সিপিএ) গঠনের পর ‘ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর ইরাক’ (ডিএফআই) প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই তহবিলের উদ্দেশ্য ছিল তেল বিক্রির রাজস্ব জমা রাখা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন ও উন্নয়নকাজে ব্যয় করা।

ইরাকের জাতীয় বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে তেল খাত থেকে। ফলে তেল রাজস্বের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ইরাকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ২০২০ সালে ইরাক সরকার মার্কিন সেনাদের দেশ ছাড়ার আহ্বান জানালে নিউ ইয়র্ক ফেডে থাকা তহবিলে প্রবেশাধিকার বন্ধের হুমকি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

বর্তমানে ইরাকের তেল বিক্রির পুরো অর্থ নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের হেফাজতে রয়েছে। ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (সিবিআই) স্থানীয় বাজারে ডলার সরবরাহের জন্য ‘ডলার নিলাম’ ব্যবস্থা পরিচালনা করত, তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ২০২৫ সালের শুরুতে এই ব্যবস্থা বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন