জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত একরকম থাকে না। কখনো প্রিয়জন হারানোর বেদনা, কখনো দীর্ঘদিনের রোগবালাই, আবার কখনো জীবিকা বা সংসারের অনিশ্চয়তা; এসব কারণে মানুষ মাঝে মাঝে এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, যখন হৃদয়ের কষ্টের ভার ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। চরম অসহায় মুহূর্তে অনেকের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে, "হে আল্লাহ, আমাকে তুলে নাও!"
ইসলাম মানুষের এই মানসিক কষ্টকে অস্বীকার করে না, তবে জীবনের বিদায়ী কামনা করাকে সমর্থন করে না। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন, "তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।" (সুরা আজ-যুমার: ৫৩) একজন ঈমানদার কখনো আশাহত হয় না, কারণ কষ্টের পরেই স্বস্তি আসে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বিপদে পড়ে মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, "যদি বলতেই হয়, তবে যেন এভাবে দোয়া করে: হে আল্লাহ! যতদিন বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর, ততদিন আমাকে জীবিত রাখুন; আর যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হবে, তখন আমাকে তুলে নিন।" (বোখারি: ৫৬৭১)
হাদিসে বর্ণিত নিষিদ্ধ মৃত্য কামনা মূলত দুনিয়ার যেকোনো কষ্টের কারণে মৃত্যু কামনা বোঝানো হয়েছে। তবে কেউ যদি নিজের দ্বীন-ঈমানের ওপর ফিতনার আশঙ্কা করেন, তাহলে এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
মানসিক যন্ত্রণায় যারা ভুগছেন, তাদের উদ্দেশ্যে ইসলাম বলে, দুনিয়ার কষ্ট থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে মৃত্যু কামনা কোনো সঠিক সমাধান নয়। বরং চরম হতাশাতেও ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর রহমতের জন্য দোয়া করা উচিত।
অনলাইন ডেক্স 
























