ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যালয়ের মাঠে নদীর আগ্রাসন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেছে ৭০ শতাংশ

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০৯ Time View

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের আলম খাঁনকান্দি গ্রামের ১২২ নম্বর আলতাফ হোসেন খাঁন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদ্মা নদীর ভাঙনের কারণে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টি ২০১৭ সালে স্থাপিত হওয়ার সময় নদী ছিল প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে, কিন্তু বর্তমানে নদী বিদ্যালয়ের মাঠের কাছে চলে এসেছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদীভাঙনের আশঙ্কায় ভবনের টিন ও বেড়া খুলে রাখা হয়েছে এবং কিছু আসবাব সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ে ২১৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও নদীভাঙনের কারণে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই নিরাপদ দূরত্বে চলে গেছেন, ফলে অন্তত ১১০ জন শিক্ষার্থী ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম খান জানিয়েছেন, গত দুই মাসে নদী বিদ্যালয়ের মাঠের কাছে চলে আসার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন দুশ্চিন্তায় থাকি। স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে চিন্তা হয়, পরদিন এসে স্কুলটি দেখতে পাব কি না।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খাঁন জানিয়েছেন, নদীভাঙনের কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বছর আলম খাঁনকান্দি এলাকায় অন্তত ৩৫০টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে।

জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রহমান জানিয়েছেন, বিদ্যালয়টি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তাঁরা বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে, তবে এখনো বিকল্প জমি পাওয়া যায়নি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুন, সদস্য সচিব সফল দাশ

বিদ্যালয়ের মাঠে নদীর আগ্রাসন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেছে ৭০ শতাংশ

আপলোড সময় : ১২:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের আলম খাঁনকান্দি গ্রামের ১২২ নম্বর আলতাফ হোসেন খাঁন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদ্মা নদীর ভাঙনের কারণে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টি ২০১৭ সালে স্থাপিত হওয়ার সময় নদী ছিল প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে, কিন্তু বর্তমানে নদী বিদ্যালয়ের মাঠের কাছে চলে এসেছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদীভাঙনের আশঙ্কায় ভবনের টিন ও বেড়া খুলে রাখা হয়েছে এবং কিছু আসবাব সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ে ২১৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও নদীভাঙনের কারণে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই নিরাপদ দূরত্বে চলে গেছেন, ফলে অন্তত ১১০ জন শিক্ষার্থী ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম খান জানিয়েছেন, গত দুই মাসে নদী বিদ্যালয়ের মাঠের কাছে চলে আসার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন দুশ্চিন্তায় থাকি। স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে চিন্তা হয়, পরদিন এসে স্কুলটি দেখতে পাব কি না।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খাঁন জানিয়েছেন, নদীভাঙনের কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বছর আলম খাঁনকান্দি এলাকায় অন্তত ৩৫০টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে।

জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রহমান জানিয়েছেন, বিদ্যালয়টি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং তাঁরা বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে, তবে এখনো বিকল্প জমি পাওয়া যায়নি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন