শুক্রবার (৯ অক্টোবর) শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবর সামনে আসার পর জাতিসংঘের তৎকালীন মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নাভানেথেম নাভি পিল্লাইয়ের বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার, হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এবং মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে ২০১৩ সালে তার কঠোর অবস্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার, নির্যাতন প্রতিরোধ ও মানবাধিকারের সুরক্ষায় কাজ করেছেন।
নাভি পিল্লাইয়ের বক্তব্যের মধ্যে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ঢাকার একটি বিশেষ আদালত এ মামলায় ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এর পরদিন তিনি বিচারপ্রক্রিয়া এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৭৪ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ৫৭ জন ছিলেন সেনা কর্মকর্তা। তিনি অভিযুক্তদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রেক্ষাপটেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো তার বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছিল।
নাভি পিল্লাইয়ের দীর্ঘদিনের মানবাধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এই নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
অনলাইন ডেক্স 
























