১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসের বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটেছিল, যা ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করে। ওই দিন বিকেলে ক্ষুব্ধ জনতা দুর্গের সামনে জড়ো হয় এবং চার ঘণ্টার সংঘর্ষের পর দুর্গটি দখল করে। এই লড়াইয়ে প্রায় আটানব্বই জন হামলাকারী নিহত হন, অন্যদিকে দুর্গরক্ষীদের মধ্যে একজন প্রাণ হারান।
দুর্গের সেনাপতি বার্নার্দ-রনে জর্দ্যাঁ দ্য লোনেকে জনতা হত্যা করে এবং তার মাথা বর্শায় গেঁথে শহরে প্রদর্শন করা হয়। দুর্গের ফটক খুলে দেওয়ার পর এক সেনা কর্মকর্তাকে ভুল করে রক্ষী মনে করে জনতা তার হাত কেটে ফেলে। এই ঘটনাগুলো ছিল শতাব্দীর পর শতাব্দী জমে থাকা ক্ষোভের প্রকাশ।
বাস্তিল দুর্গে সেদিন মাত্র সাতজন বন্দী ছিলেন, যাদের মধ্যে রাজনৈতিক বন্দী ছিলেন না। তবুও, দুর্গটি রাজতন্ত্রের ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে গণজাগরণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। ১৮ শতকের ফ্রান্স ছিল এক নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র, যেখানে সাধারণ জনগণ করের বোঝা বহন করত, অথচ যাজক ও অভিজাতরা করমুক্ত সুবিধা ভোগ করত।
সপ্তবর্ষীয় যুদ্ধ এবং আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রামে ফ্রান্সের সামরিক সহায়তার ব্যয় রাষ্ট্রকে দেউলিয়া করে তোলে। ১৭৮৮-৮৯ সালের ব্যর্থ শস্য উৎপাদন রুটির দাম বাড়িয়ে দেয়, যা জনতার ক্ষোভ বাড়িয়ে তোলে।
বাস্তিলের পতন কেবল একটি দুর্গের পতন ছিল না, বরং স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে জনগণের বিজয়ের প্রথম প্রমাণ। ফ্রান্স ১৪ জুলাইকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করে, যা স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে স্মরণ করা হয়। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র কখনোই বিনামূল্যে আসে না।
অনলাইন ডেক্স 























