পিরোজপুরের নেছারাবাদে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে কয়েক দশকের পুরোনো একটি মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জমিটি আদালতে মামলা চলাকালীন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দখল হয়ে যায়।
মন্দির সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি শফিকুল ইসলাম হাওলাদার জমিটি দখল করে চাষাবাদ শুরু করেছেন, যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করছে। মন্দিরটি দক্ষিণপাড়ায় অবস্থিত এবং এটি সর্বজনীন শীতলা মন্দির নামে পরিচিত।
স্থানীয়দের মতে, মন্দিরের নামে প্রায় ৪২ শতক জমি রয়েছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে পূজা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে আসছিল। জমির আট মালিকের একজন সমীর রঞ্জন আইচ জানান, তিনি শফিকুল ইসলামকে অনিবন্ধিত বায়নাচুক্তির ভিত্তিতে কিছু জমি বিক্রি করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলে নেওয়া হয়।
জমির আরেক মালিক ননী লাল বিশ্বাসের ছেলে মনোজ বিশ্বাস বলেন, জমিটি আটজন শরিকের নামে রেকর্ড করা রয়েছে এবং শফিকুল ইসলাম একটি বায়নাচুক্তি দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তিনি জমিটি উদ্ধার করে আগের মতো পূজা-অর্চনা চালুর দাবি জানান।
এ বিষয়ে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জামায়াতে ইসলামী দলের সভাপতি মো. আবু হানিফ জানান, জমি-সংক্রান্ত বিষয়টি শফিকুলের ব্যক্তিগত এবং দল এ বিষয়ে দায়ী নয়। পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব প্রলয় মণ্ডল জানান, তারা সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম সাড়া দেননি।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং বিষয়টি আদালতে রয়েছে। উভয় পক্ষকে আইনি প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অনলাইন ডেক্স 

























