রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১০ জন আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, আনসার সদস্যরা হাসপাতালের ভেতরে দালালদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে রোগী বহনকারী ভ্যানচালকদের হয়রানি করছেন।
সম্প্রতি এক ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মারধরের পর ওই ভ্যানচালককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাসে আনসার সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হলেও হাসপাতালের ভেতরে দালালদের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, দালালরা রোগীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সপ্তাহে দুই দিন চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ থাকার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিনই তাঁদের অবাধ চলাচল দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোগীদের ব্যবস্থাপত্রের ছবি তোলারও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, হাসপাতালের ভেতরে মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের চালকদের দীর্ঘ সময় অবস্থান এবং রোগী ও স্বজনদের অপেক্ষার জায়গা দখল করে বসে থাকার অভিযোগ থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে মারধর, চাবি কেড়ে নেওয়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা অমিত কুমার জানিয়েছেন, তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম শুনেছেন এবং আনসার সদস্যদের ডেকে জিজ্ঞাসা করেছেন। তিনি মারধরের শিকার ভ্যানচালককে তাঁর কাছে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অনলাইন ডেক্স 

























