বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)-এর তথ্য অনুযায়ী, শ্রমশক্তিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের হার ৩৮.৬৫% থেকে ৪১.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বাজেটে লিঙ্গভিত্তিক বরাদ্দ ৩,২৬,০৫৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মোট জাতীয় বাজেটের প্রায় ৩৪.৮%।
তৈরি পোশাক খাতে নারীদের অবদান উল্লেখযোগ্য। আনুমানিক ৪২-৪৫ লাখ শ্রমিকের মধ্যে ৫৫% থেকে ৬০% নারীকর্মী। তবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে অটোমেশন ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। নারীদের 'আপস্কিলিং' প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষি খাতে নারীদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। নারীরা খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে সরকারি সুবিধা ও কৃষক কার্ডের অভাব তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে নারীদের জন্য বিশেষ 'কৃষক কার্ড' প্রদান করা হলে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
প্রবাসী নারীরা বিদেশে বিভিন্ন সেবা খাতে কাজ করে উল্লেখযোগ্য রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভাষার দক্ষতার অভাব তাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে তাদের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি পাবে।
ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা প্রায় ৫০%। তবে জামানতহীন ঋণ ও সাইবার নিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে। উদ্যোক্তা নারীদের জন্য সহজ ঋণ সুবিধা ও পেমেন্ট গেটওয়ে সহজ করা হলে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।
নারীদের অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজের আর্থিক মূল্য জাতীয় GDP-র প্রায় ১৮.৯%। এই শ্রমের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও 'কেয়ার ইকোনমি' নীতিতে অন্তর্ভুক্তি নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন করবে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নারীদের অন্তর্ভুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। বেতন বৈষম্য নিরসন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
অনলাইন ডেক্স 

























