ঢাকা ০২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাইয়ে দিতে শাহবাজের প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০২:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ২১১ Time View

দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একই পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পিল্লাইয়ের আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের বিপরীতে ট্রাম্পকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার চেষ্টা পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

‘পিল্লাইয়ের দৃঢ় অবস্থান, শরিফের লজ্জা: পুরস্কার, প্রশংসা ও নতজানু রাজনীতি’ শীর্ষক নিবন্ধে পিল্লাইয়ের কাজের প্রশংসা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি সমালোচিত হয়েছে। ট্রাম্পের প্রশাসন গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

নাভি পিল্লাই জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করেছেন। গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী ইতিহাস আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

শাহবাজ শরিফের কূটনৈতিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার ইঙ্গিত দেয়। শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সেই রাষ্ট্রের নেতাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা এক বিষয় নয়। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রয়োজন, তবে তা নীতিগত অবস্থান বিসর্জনের কারণ হওয়া উচিত নয়।

শাহবাজের ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন দেওয়ার প্রচেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ায় সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাত এড়াতে ভূমিকা রাখার দাবি করে। তবে কূটনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও সংঘাত নিরসন, কোনো শক্তিশালী নেতার ব্যক্তিগত অনুগ্রহ অর্জন নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্ত্রীর ছবি তোলার প্রতিবাদে সিলেটে স্বামী খুন

ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাইয়ে দিতে শাহবাজের প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

আপলোড সময় : ০২:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একই পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পিল্লাইয়ের আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের বিপরীতে ট্রাম্পকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার চেষ্টা পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

‘পিল্লাইয়ের দৃঢ় অবস্থান, শরিফের লজ্জা: পুরস্কার, প্রশংসা ও নতজানু রাজনীতি’ শীর্ষক নিবন্ধে পিল্লাইয়ের কাজের প্রশংসা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি সমালোচিত হয়েছে। ট্রাম্পের প্রশাসন গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

নাভি পিল্লাই জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করেছেন। গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী ইতিহাস আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

শাহবাজ শরিফের কূটনৈতিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার ইঙ্গিত দেয়। শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সেই রাষ্ট্রের নেতাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা এক বিষয় নয়। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রয়োজন, তবে তা নীতিগত অবস্থান বিসর্জনের কারণ হওয়া উচিত নয়।

শাহবাজের ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন দেওয়ার প্রচেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ায় সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাত এড়াতে ভূমিকা রাখার দাবি করে। তবে কূটনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও সংঘাত নিরসন, কোনো শক্তিশালী নেতার ব্যক্তিগত অনুগ্রহ অর্জন নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন