ঢাকা ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেওয়ারিশ লাশের দাফনে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ এর মানবিক উদ্যোগ

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১১:২৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ২০৫ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ গত চার বছরে ২৬৮টি বেওয়ারিশ মরদেহের দাফন সম্পন্ন করেছে। এই সংগঠনটি পরিচয়হীন এবং স্বজনহীন মানুষের শেষ ঠিকানা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

সর্বশেষ ১৬ আগস্ট সরাইল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এক যুবক নিহত হন। খাটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ছয় দিন পরও কেউ মরদেহটির দাবি নিয়ে আসেননি, ফলে যুবকটিকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

বেওয়ারিশ মরদেহগুলো দাফনের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পূর্ব মেড্ডা সার গুদামের পাশে তিতাস নদীর পাড়ে একটি কবরস্থানে রাখা হয়। তবে বর্ষাকালে সেখানে পানি জমে যাওয়ার কারণে দাফনকাজে সমস্যা হয়।

‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ সংগঠনটি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা মো. আজহার উদ্দিন জানান, তারা পারিবারিক ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে মরদেহ দাফনের কাজ করে থাকেন। সংগঠনটি সড়ক দুর্ঘটনা, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু এবং অন্যান্য পরিস্থিতিতে মৃত ব্যক্তিদের দাফন করে থাকে।

এছাড়া, সংগঠনটি পরিচয়হীন ব্যক্তিদের পরিবারের সন্ধান করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। করোনাকালে অসুস্থ মানুষের জন্য অক্সিজেন সেবা দেওয়ার কাজও তারা করেছেন। সংগঠনের কার্যক্রমে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন আজহার উদ্দিন।

‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ মানবিক দায়িত্ব পালন করে স্বজনহীন মানুষের শেষ বিদায়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে, যা সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বেওয়ারিশ লাশের দাফনে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ এর মানবিক উদ্যোগ

আপলোড সময় : ১১:২৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ গত চার বছরে ২৬৮টি বেওয়ারিশ মরদেহের দাফন সম্পন্ন করেছে। এই সংগঠনটি পরিচয়হীন এবং স্বজনহীন মানুষের শেষ ঠিকানা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

সর্বশেষ ১৬ আগস্ট সরাইল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এক যুবক নিহত হন। খাটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ছয় দিন পরও কেউ মরদেহটির দাবি নিয়ে আসেননি, ফলে যুবকটিকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

বেওয়ারিশ মরদেহগুলো দাফনের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার পূর্ব মেড্ডা সার গুদামের পাশে তিতাস নদীর পাড়ে একটি কবরস্থানে রাখা হয়। তবে বর্ষাকালে সেখানে পানি জমে যাওয়ার কারণে দাফনকাজে সমস্যা হয়।

‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ সংগঠনটি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা মো. আজহার উদ্দিন জানান, তারা পারিবারিক ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে মরদেহ দাফনের কাজ করে থাকেন। সংগঠনটি সড়ক দুর্ঘটনা, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু এবং অন্যান্য পরিস্থিতিতে মৃত ব্যক্তিদের দাফন করে থাকে।

এছাড়া, সংগঠনটি পরিচয়হীন ব্যক্তিদের পরিবারের সন্ধান করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। করোনাকালে অসুস্থ মানুষের জন্য অক্সিজেন সেবা দেওয়ার কাজও তারা করেছেন। সংগঠনের কার্যক্রমে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন আজহার উদ্দিন।

‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’ মানবিক দায়িত্ব পালন করে স্বজনহীন মানুষের শেষ বিদায়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে, যা সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন