শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা তদন্তে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদন দীর্ঘদিন ধরে জনসমক্ষে আসেনি। তবে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার বুধবার (২৯ জুলাই) প্রতিবেদনে জানায়, কমিশনের সভাপতির সই করা মূল প্রতিবেদনের একটি মুদ্রিত কপি হাতে এসেছে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ৬ জুন হত্যাকাণ্ড তদন্তে একটি কমিশন গঠন করেন। সাবেক প্রধান বিচারপতি রুহুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের সদস্য ছিলেন বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ আফজাল এবং খুলনার জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ সিরাজউদ্দিন আহমেদ।
কমিশন ২৫ জুন ১৯৮১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। কমিশনের কার্যক্রম পরিচালিত ভবনটি পরে গণভবনে রূপান্তরিত হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দিন এম চৌধুরী বলেন, ‘এই প্রতিবেদন কোনোদিন আলোর মুখ দেখেনি। প্রতিবেদনটির কী হয়েছিল, সেটাও আমরা জানি না।’
প্রাথমিক কার্যপরিধিতে কমিশনকে তদন্ত করতে বলা হয়েছিল, জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড কোনো ষড়যন্ত্রের ফল ছিল কি না। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে কমিশনের কার্যপরিধি থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি বাদ দেয়। কমিশনের কাজ ছিল রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তার ঘাটতি মূল্যায়ন করা।
কমিশন তদন্তে ৬২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তাব্যবস্থা এতটাই শিথিল ছিল যে হত্যাকারীরা বিনা বাধায় তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে পেরেছিল। কমিশন উল্লেখ করে, সার্কিট হাউসে মোট ২৬ জন কনস্টেবল, ছয়জন হাবিলদার, একজন সুবেদার ও দুজন বিউগলবাদক মোতায়েন ছিল।
অনলাইন ডেক্স 























