ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়াবার ভয়াবহতা: মাদকাসক্তির চিত্র ও প্রভাব

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২:১৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ২০২ Time View

থাই শব্দ ইয়াবার আক্ষরিক অর্থ ‘পাগল করা ওষুধ’। মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইনের মিশ্রণে তৈরি এই সিন্থেটিক মাদক বর্তমানে বাংলাদেশের লাখো মানুষের জীবন বিপন্ন করে তুলেছে। কঠোর আইন ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকা সত্ত্বেও দেশে ইয়াবার আগ্রাসন থামানো যাচ্ছে না। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি এবং আর্থসামাজিক হতাশার কারণে তরুণদের মধ্যে ইয়াবার ব্যবহার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশের সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের প্রায় ৫ শতাংশই বর্তমানে মাদকে আসক্ত। চলতি মাসে জাতীয় সংসদে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি বিল অনুমোদন করা হয়েছে। বাংলাদেশে ইয়াবাকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘ক-শ্রেণির’ বা ক্লাস-এ মাদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০১৮ সালে মাদকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী কঠোর অভিযান চালানো হয়েছিল, যার ফলে দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, সে বছর নিহতের সংখ্যা ছিল ৪৬৬। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এসব পদক্ষেপ মাদকের বিস্তার রোধে খুব একটা কার্যকর হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রয়োজন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, দেশে বর্তমানে মাত্র ৩৫০ জনের মতো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন এমন ৯০ শতাংশ মানুষই সেবার আওতার বাইরে থাকছেন। চিকিৎসকদের মতে, ইয়াবার পাশাপাশি দেশে হেরোইন ও বুপ্রেনোরফিনের ব্যবহারও বাড়ছে।

মাদকাসক্তির পেছনে আন্তর্জাতিক চোরাচালান নেটওয়ার্কও বড় ভূমিকা রাখছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রেকর্ড ২৩৬ টন মেথামফেটামিন জব্দ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রবেশ করা ইয়াবার মূল উৎপাদক হিসেবে মিয়ানমারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ‘মেটালফ্রিক’ বলে পরিচয় দেন, ইয়াবার প্রভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। তিনি জানান, ইয়াবা তার মানসিক ভারসাম্যকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আসক্তরা সাধারণত সিগারেট বা গাঁজা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে ইয়াবায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি ইয়াবাকে একটি ‘ধীর বিষপ্রয়োগ ও নিখুঁত ধ্বংসের পরিকল্পনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

২১ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি ও প্রোভিসি নিয়োগ

ইয়াবার ভয়াবহতা: মাদকাসক্তির চিত্র ও প্রভাব

আপলোড সময় : ১২:১৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

থাই শব্দ ইয়াবার আক্ষরিক অর্থ ‘পাগল করা ওষুধ’। মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইনের মিশ্রণে তৈরি এই সিন্থেটিক মাদক বর্তমানে বাংলাদেশের লাখো মানুষের জীবন বিপন্ন করে তুলেছে। কঠোর আইন ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকা সত্ত্বেও দেশে ইয়াবার আগ্রাসন থামানো যাচ্ছে না। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি এবং আর্থসামাজিক হতাশার কারণে তরুণদের মধ্যে ইয়াবার ব্যবহার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশের সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের প্রায় ৫ শতাংশই বর্তমানে মাদকে আসক্ত। চলতি মাসে জাতীয় সংসদে মাদকসংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি বিল অনুমোদন করা হয়েছে। বাংলাদেশে ইয়াবাকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘ক-শ্রেণির’ বা ক্লাস-এ মাদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০১৮ সালে মাদকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী কঠোর অভিযান চালানো হয়েছিল, যার ফলে দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, সে বছর নিহতের সংখ্যা ছিল ৪৬৬। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এসব পদক্ষেপ মাদকের বিস্তার রোধে খুব একটা কার্যকর হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রয়োজন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, দেশে বর্তমানে মাত্র ৩৫০ জনের মতো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন এমন ৯০ শতাংশ মানুষই সেবার আওতার বাইরে থাকছেন। চিকিৎসকদের মতে, ইয়াবার পাশাপাশি দেশে হেরোইন ও বুপ্রেনোরফিনের ব্যবহারও বাড়ছে।

মাদকাসক্তির পেছনে আন্তর্জাতিক চোরাচালান নেটওয়ার্কও বড় ভূমিকা রাখছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রেকর্ড ২৩৬ টন মেথামফেটামিন জব্দ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রবেশ করা ইয়াবার মূল উৎপাদক হিসেবে মিয়ানমারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ‘মেটালফ্রিক’ বলে পরিচয় দেন, ইয়াবার প্রভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। তিনি জানান, ইয়াবা তার মানসিক ভারসাম্যকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আসক্তরা সাধারণত সিগারেট বা গাঁজা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে ইয়াবায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি ইয়াবাকে একটি ‘ধীর বিষপ্রয়োগ ও নিখুঁত ধ্বংসের পরিকল্পনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন