ফসলকে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার একটি প্রচলিত পদ্ধতি। এই কীটনাশকগুলো মূলত ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১,০০০টিরও বেশি ধরনের কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে, যার প্রত্যেকটির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ও বিষক্রিয়ার ধরণ আলাদা।
বেশিরভাগ কীটনাশক পোকামাকড়ের স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। কিছু কীটনাশক কৃত্রিমভাবে তৈরি, আবার কিছু প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত রাসায়নিকের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। অধিকাংশ কীটনাশক পোকামাকড়ের স্নায়ুকোষের মধ্যে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম আয়নের ভারসাম্য বিনষ্ট করে, ফলে স্নায়ুকোষগুলো সংকেত আদান-প্রদান করতে পারে না।
রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, কারণ এগুলোর মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। উচ্চমাত্রায় কীটনাশকের সংস্পর্শে এলে গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতীতে কিছু কীটনাশক পরিবেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছে, যেমন ডিডিটি, যা ১৯৪০ সালে উদ্ভাবিত হয়েছিল।
বর্তমানে বাজারে আসা শাকসবজি ও ফলমূল সাধারণত ভালোভাবে ধোয়া ও পরিষ্কার করা হয়। নিয়মিত কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করা হয়, যাতে খাদ্যে রাসায়নিকের মাত্রা নিরাপদ থাকে। তবে নিওনিকোটিনয়েড নামের এক ধরনের রাসায়নিক কীটনাশক মৌমাছির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে, যা ২০১৩ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আংশিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের জন্য মৌমাছির গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ তারা পরাগায়নের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই মৌমাছির সুরক্ষা নিশ্চিত করা কৃষির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
অনলাইন ডেক্স 
























