মানুষের মুখের পেছনের পেষণ দাঁতগুলো, যেগুলোকে আক্কেল দাঁত বলা হয়, সাধারণত ১৭ থেকে ২১ বছর বয়সের মধ্যে ওঠা শুরু করে। তবে, সবার ক্ষেত্রে এই দাঁত ওঠে না এবং যাদের ওঠে, তাদের মধ্যে অনেকের জন্য এটি তীব্র ব্যথা ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।
আক্কেল দাঁত সাধারণত ৩২টি দাঁতের মধ্যে একটি বা একাধিক হতে পারে। আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় আট জনের ক্ষেত্রে অন্তত একটি আক্কেল দাঁত গজায় না। যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এই দাঁতগুলো সাধারণত কৈশোরের শেষভাগ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে ওঠে।
আক্কেল দাঁত যদি সঠিকভাবে ওঠে, তবে এটি মুখের পেছনের অংশে সমর্থন দিতে পারে। তবে আধুনিক খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে মানুষের চোয়ালের আকার ছোট হয়ে গেছে, যার ফলে অনেকের জন্য এই দাঁত ওঠার পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না।
যখন আক্কেল দাঁত জায়গার অভাবে ওঠে, তখন এটি পাশের দাঁতের দিকে হেলে যেতে পারে অথবা মাড়ির নিচে আটকে থাকতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘ইমপ্যাক্টেড উইজডম টুথ’ বলা হয়। এই অবস্থায় দাঁতের চারপাশে প্রদাহ বা সংক্রমণ দেখা দিতে পারে, যা ‘পেরিকোরোনাইটিস’ নামে পরিচিত।
ঢাকার দন্ত চিকিৎসক ডা. এ. কে. এম. হাসানুজজামান জানান, দাঁতের অবস্থান ভালো হলে এবং উঠার পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে আক্কেল দাঁত স্বাভাবিকভাবে উঠে আসতে পারে। তবে, মাড়ির সংক্রমণ দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করলে মারাত্মক রূপ নিতে পারে।
এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, আক্কেল দাঁতে ব্যথা হলেই তা তুলে ফেলতে হবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। যদি দাঁতটি কোনো সমস্যা তৈরি না করে, তবে নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করাই যথেষ্ট। তবে, তীব্র ব্যথা বা সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দাঁতটি তুলে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে।
অনলাইন ডেক্স 

























