ঢাকা ০৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপতথ্য ঠেকাতে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৭:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০৪ Time View

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য, গুজব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ঠেকাতে সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

তিনি বলেন, সরকারের ভুল-ভ্রান্তি হলে সাংবাদিকরা অবশ্যই তা তুলে ধরবেন। তবে অপপ্রচার বা অপতথ্যের মাধ্যমে নয়। এআই, ফ্যাক্টচেকিং এবং মিসইনফরমেশন সম্পর্কে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতেই সারাদেশে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, ফ্যাক্টচেকিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের শুধু একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে না। ফ্যাক্টচেকিং, ডিসইনফরমেশন ও মিসইনফরমেশন সম্পর্কে তাদের দক্ষ করে তোলাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে যেভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা বন্ধে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের এমন কোনো জনপ্রিয় বা সুপরিচিত ব্যক্তি নেই, যার নামে অপপ্রচার করা হয়নি। আমাদের মা-বোনদেরও মিসইনফরমেশন ও ইনপার্সোনেশনের মাধ্যমে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।’

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অপপ্রচার শুধু সাংবাদিকদের মাধ্যমে হচ্ছে না। অনেকেই সাংবাদিক না হয়েও নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন। আবার কেউ কেউ এআই ব্যবহার করে মানুষের ছবি বিকৃত করে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে প্রকৃত সাংবাদিকদেরও দুর্নাম হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য আমরা দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স কোর্স, এআইভিত্তিক জার্নালিজমসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করছি। প্রেস ক্লাবগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা নেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের জন্য আরও সহযোগিতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নিজের দায়িত্বের এলাকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ময়মনসিংহ বিভাগের সন্তান নই, সারা বাংলাদেশের মন্ত্রী। মন্ত্রণালয় সারা বাংলাদেশের জন্য কাজ করে। তবে আশপাশের এলাকাবাসীর প্রতি দরদটা একটু বেশি থাকবে, এটাও স্বাভাবিক।’

তিনি জানান, প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ বিভাগ, বগুড়া, ফেনী ও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সাংবাদিকদের এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব এলাকায় এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মিথ্যা বা অসত্য আশ্বাস দিতে চাই না যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে দেব। এমন মিথ্যা আশ্বাস আমরা দিই না। তবে বাংলাদেশকে আরও সুন্দর ও ভালো জায়গায় কীভাবে নেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিকসহ প্রত্যেকেরই দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। সাংবাদিকরা জনগণের কথা তুলে ধরেন এবং সরকারের ভুল-ত্রুটিও তুলে ধরবেন। তবে তা হতে হবে তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণমাধ্যমে যে স্বাধীনতা বিরাজমান, তা অব্যাহত থাকবে।’

এ সময় তিনি রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রকে যেভাবে ভঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে যেভাবে ১৭ বছরে ভঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছিল, সেই ফ্যাসিবাদ যেন আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং গণতন্ত্র যেন অব্যাহত থাকে, সেদিকে আপনাদের নজর দিতে হবে।’

হোসেনপুরসহ কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নেওয়া উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি স্থানীয় মানুষের পাশে থাকারও আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মুকিত সরকার, হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন, হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজের উপাধ্যক্ষের পদত্যাগ, ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ

অপতথ্য ঠেকাতে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

আপলোড সময় : ০৭:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য, গুজব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ঠেকাতে সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

তিনি বলেন, সরকারের ভুল-ভ্রান্তি হলে সাংবাদিকরা অবশ্যই তা তুলে ধরবেন। তবে অপপ্রচার বা অপতথ্যের মাধ্যমে নয়। এআই, ফ্যাক্টচেকিং এবং মিসইনফরমেশন সম্পর্কে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতেই সারাদেশে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় সাংবাদিকদের জন্য মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, ফ্যাক্টচেকিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের শুধু একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে না। ফ্যাক্টচেকিং, ডিসইনফরমেশন ও মিসইনফরমেশন সম্পর্কে তাদের দক্ষ করে তোলাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে যেভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা বন্ধে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের এমন কোনো জনপ্রিয় বা সুপরিচিত ব্যক্তি নেই, যার নামে অপপ্রচার করা হয়নি। আমাদের মা-বোনদেরও মিসইনফরমেশন ও ইনপার্সোনেশনের মাধ্যমে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।’

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অপপ্রচার শুধু সাংবাদিকদের মাধ্যমে হচ্ছে না। অনেকেই সাংবাদিক না হয়েও নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন। আবার কেউ কেউ এআই ব্যবহার করে মানুষের ছবি বিকৃত করে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে প্রকৃত সাংবাদিকদেরও দুর্নাম হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রকৃত সাংবাদিকদের জন্য আমরা দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স কোর্স, এআইভিত্তিক জার্নালিজমসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করছি। প্রেস ক্লাবগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা নেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের জন্য আরও সহযোগিতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নিজের দায়িত্বের এলাকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ময়মনসিংহ বিভাগের সন্তান নই, সারা বাংলাদেশের মন্ত্রী। মন্ত্রণালয় সারা বাংলাদেশের জন্য কাজ করে। তবে আশপাশের এলাকাবাসীর প্রতি দরদটা একটু বেশি থাকবে, এটাও স্বাভাবিক।’

তিনি জানান, প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ বিভাগ, বগুড়া, ফেনী ও ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সাংবাদিকদের এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব এলাকায় এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মিথ্যা বা অসত্য আশ্বাস দিতে চাই না যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে দেব। এমন মিথ্যা আশ্বাস আমরা দিই না। তবে বাংলাদেশকে আরও সুন্দর ও ভালো জায়গায় কীভাবে নেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিকসহ প্রত্যেকেরই দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। সাংবাদিকরা জনগণের কথা তুলে ধরেন এবং সরকারের ভুল-ত্রুটিও তুলে ধরবেন। তবে তা হতে হবে তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণমাধ্যমে যে স্বাধীনতা বিরাজমান, তা অব্যাহত থাকবে।’

এ সময় তিনি রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রকে যেভাবে ভঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে যেভাবে ১৭ বছরে ভঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছিল, সেই ফ্যাসিবাদ যেন আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং গণতন্ত্র যেন অব্যাহত থাকে, সেদিকে আপনাদের নজর দিতে হবে।’

হোসেনপুরসহ কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নেওয়া উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি স্থানীয় মানুষের পাশে থাকারও আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মুকিত সরকার, হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন, হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন