ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজের উপাধ্যক্ষের পদত্যাগ, ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৭:২৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০২ Time View

কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. মহম্মদী তরন্নুমকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে ২৩ ঘণ্টা আটকে রেখে চরম অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে এবং ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনার নেপথ্যে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) বিক্ষোভ রয়েছে।

ড. তরন্নুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বার কাউন্সিলের নিয়ম মেনে কলেজে ৭৫ শতাংশ হাজিরার কড়াকড়ি আরোপ করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাত্র সংগঠনটি বিক্ষোভ শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, উপাধ্যক্ষের পদত্যাগের পর তার কক্ষে গঙ্গারপানি ছিটিয়ে এবং ধূপকাঠি জ্বালিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়।

কলেজের সহকর্মীদের মতে, ড. তরন্নুম একজন দক্ষ শিক্ষিকা ছিলেন এবং তার পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। অভিযোগ করা হচ্ছে যে, বিজেপি নেতা সজল ঘোষ কলেজের কাজে হস্তক্ষেপ করে তাকে হুমকি দিয়েছেন।

ঘেরাও চলাকালীন ড. তরন্নুমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। তাকে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয় এবং ২৩ ঘণ্টা জল বা খাবার দেওয়া হয়নি। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়ে উদ্ধারের আবেদন করেন, কিন্তু কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেননি।

শেষ পর্যন্ত, পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে কলেজ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তিনি বারবার চিৎকার করে বলেন যে, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। এই ঘটনার মাধ্যমে ধর্মান্ধতা এবং রাজনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে একজন সংখ্যালঘু শিক্ষিকার কণ্ঠরোধের অভিযোগ উঠেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজের উপাধ্যক্ষের পদত্যাগ, ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ

কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজের উপাধ্যক্ষের পদত্যাগ, ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ

আপলোড সময় : ০৭:২৫:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. মহম্মদী তরন্নুমকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে ২৩ ঘণ্টা আটকে রেখে চরম অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে এবং ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। এই ঘটনার নেপথ্যে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) বিক্ষোভ রয়েছে।

ড. তরন্নুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বার কাউন্সিলের নিয়ম মেনে কলেজে ৭৫ শতাংশ হাজিরার কড়াকড়ি আরোপ করেছিলেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাত্র সংগঠনটি বিক্ষোভ শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, উপাধ্যক্ষের পদত্যাগের পর তার কক্ষে গঙ্গারপানি ছিটিয়ে এবং ধূপকাঠি জ্বালিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়।

কলেজের সহকর্মীদের মতে, ড. তরন্নুম একজন দক্ষ শিক্ষিকা ছিলেন এবং তার পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। অভিযোগ করা হচ্ছে যে, বিজেপি নেতা সজল ঘোষ কলেজের কাজে হস্তক্ষেপ করে তাকে হুমকি দিয়েছেন।

ঘেরাও চলাকালীন ড. তরন্নুমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। তাকে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয় এবং ২৩ ঘণ্টা জল বা খাবার দেওয়া হয়নি। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও উচ্চশিক্ষামন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়ে উদ্ধারের আবেদন করেন, কিন্তু কেউ তার সাহায্যে এগিয়ে আসেননি।

শেষ পর্যন্ত, পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে কলেজ ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তিনি বারবার চিৎকার করে বলেন যে, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। এই ঘটনার মাধ্যমে ধর্মান্ধতা এবং রাজনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে একজন সংখ্যালঘু শিক্ষিকার কণ্ঠরোধের অভিযোগ উঠেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন