কক্সবাজারে টানা আট দিনের ভয়াবহ বন্যার পর পানি কমতে শুরু করেছে। সোমবার থেকে বৃষ্টিপাত বন্ধ হওয়ায় প্লাবিত এলাকার পানি নামতে থাকলেও বন্যার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। সড়ক, সেতু, বসতবাড়ি, কৃষি, মৎস্য খাত ও বেড়িবাঁধের ব্যাপক ক্ষতি দেখা যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় ২ হাজার ৪৮ কিলোমিটার সড়ক এবং ৭৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। চকরিয়ায় ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক ও ২০টি সেতু-কালভার্ট, মাতামুহুরীতে ১৯০ কিলোমিটার সড়ক ও ২০টি সেতু-কালভার্ট এবং পেকুয়ায় ২৩০ কিলোমিটার সড়ক ও দুটি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যায় জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টি এবং পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে চারটি প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায় এবং আড়াই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। বন্যা ও পাহাড়ধসজনিত বিভিন্ন ঘটনায় ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা এবং ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজাদের রহমান জানান, ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পরিবারের ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, তবে বিশুদ্ধ পানির সংকট এখনও প্রকট।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ৮৮টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে এবং ২১৫টি অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিন বিতরণ করা হয়েছে। বন্যায় ৩ হাজার ৯১৮টি মৎস্য খামার ও ৪৫৩টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহায়তা দেওয়া হবে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ৪ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অনলাইন ডেক্স 























