ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবন ঘেঁষে ২৪ রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০২:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২১০ Time View

সুন্দরবন ঘেঁষে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় নির্মিত ২৪টি রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় রিসোর্ট পরিচালনার অনুমতি না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার মো. ফজলুল হক জানান, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় কোনো রিসোর্ট পরিচালনা করা যায় না। আইন অনুযায়ী রিসোর্টগুলোর কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় তাদের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্ধের নির্দেশ পাওয়া রিসোর্টগুলোর মধ্যে খুলনায় ১৮টি, বাগেরহাটে দুটি এবং সাতক্ষীরায় চারটি রয়েছে। পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞরা জানান, সুন্দরবন ঘেঁষে রিসোর্ট নির্মাণ এবং পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় বনের সংবেদনশীল প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, সুন্দরবন সেন্টমার্টিনের চেয়ে বেশি স্পর্শকাতর। তিনি জানান, রিসোর্টগুলোর বর্জ্য সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, রিসোর্টগুলোর কারণে বনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে।

রিসোর্ট মালিকদের সংগঠন ‘রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন’ পরিবেশ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন শাওন বলেন, এসব রিসোর্ট সুন্দরবনের ভেতরে নয়, বরং বনের বাইরে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্মিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব উদ্যোগকে পরিবেশ ধ্বংসের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতাবিবর্জিত।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করেই এ খাতের বিকাশ ঘটাতে হবে। সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, রিসোর্ট নির্মাণের আগে ও পরে এর প্রভাব নিরূপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডিয়ান কবি অ্যান কারসন

সুন্দরবন ঘেঁষে ২৪ রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর

আপলোড সময় : ০২:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সুন্দরবন ঘেঁষে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় নির্মিত ২৪টি রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় রিসোর্ট পরিচালনার অনুমতি না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার মো. ফজলুল হক জানান, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় কোনো রিসোর্ট পরিচালনা করা যায় না। আইন অনুযায়ী রিসোর্টগুলোর কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় তাদের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্ধের নির্দেশ পাওয়া রিসোর্টগুলোর মধ্যে খুলনায় ১৮টি, বাগেরহাটে দুটি এবং সাতক্ষীরায় চারটি রয়েছে। পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞরা জানান, সুন্দরবন ঘেঁষে রিসোর্ট নির্মাণ এবং পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় বনের সংবেদনশীল প্রতিবেশব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, সুন্দরবন সেন্টমার্টিনের চেয়ে বেশি স্পর্শকাতর। তিনি জানান, রিসোর্টগুলোর বর্জ্য সুন্দরবনের পরিবেশের জন্য উদ্বেগের কারণ। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, রিসোর্টগুলোর কারণে বনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে।

রিসোর্ট মালিকদের সংগঠন ‘রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন’ পরিবেশ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন শাওন বলেন, এসব রিসোর্ট সুন্দরবনের ভেতরে নয়, বরং বনের বাইরে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্মিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব উদ্যোগকে পরিবেশ ধ্বংসের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা বাস্তবতাবিবর্জিত।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করেই এ খাতের বিকাশ ঘটাতে হবে। সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, রিসোর্ট নির্মাণের আগে ও পরে এর প্রভাব নিরূপণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন