ঢাকা ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদা খানম: মেধা ও সততার এক লড়াকু প্রতিচ্ছবি

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৭:২৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩২৬ Time View

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ইতিহাসে কিছু নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকে কেবল তাদের পদমর্যাদার জন্য নয়, বরং তাদের ধৈর্য, পেশাদারিত্ব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের জন্য। এমনই একজন লড়াকু ও মেধাবী কর্মকর্তা ফরিদা খানম। বিসিএস (প্রশাসন) ২৫তম ব্যাচের এই চৌকস কর্মকর্তা বর্তমানে ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
### সংগ্রাম ও ত্যাগের পটভূমি
গোপালগঞ্জের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ফরিদা খানমের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি ছিল অত্যন্ত মজবুত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী এই শিক্ষার্থী ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি ছিলেন অবিচল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী *রোকেয়া হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি* হিসেবে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন নেতৃত্বের গুণে গুণান্বিত এবং গণতান্ত্রিক চেতনার একনিষ্ঠ ধারক।
### পেশাগত জীবনে বঞ্চনা ও দৃঢ়তা
ফরিদা খানমের ক্যারিয়ারের একটি বড় অংশ কেটেছে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে। বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের আমলে প্রশাসনের ভেতর চরম বৈষম্যের শিকার হন তিনি। নিজের বাড়ি গোপালগঞ্জে হওয়া সত্ত্বেও এবং তৎকালীন ক্ষমতার কেন্দ্রের খুব কাছের মানুষ হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, তিনি কখনও অন্যায়ের সাথে আপস করেননি। তিনি চাইলে সহজেই ফ্যাসিস্ট সরকারের থেকে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি সেই পথে হাঁটেননি।
শহীদ জিয়ার আদর্শকে হৃদয়ে লালন করা এই কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে প্রাপ্য সম্মান ও অবস্থান থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। তবে এই দীর্ঘ বঞ্চনার সময়েও তিনি ভেঙে পড়েননি; বরং নিজের পেশাদারিত্ব এবং সততাকে আঁকড়ে ধরে ধৈর্য ধরেছেন।
### ইতিহাসের পাতায় নাম
সময় ও ন্যায়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ফরিদা খানম তার যোগ্যতার প্রকৃত স্বীকৃতি পেয়েছেন। *চট্টগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক* হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে যোগদান করেন এবং তিনি বর্তমানে *ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক* হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং জেলায় প্রথম নারী ডিসি হিসেবে তার নিয়োগ নারী নেতৃত্বের ক্ষমতায়নে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
> “বঞ্চনা মানুষকে থামিয়ে দিতে পারে না, যদি তার লক্ষ্য থাকে স্থির এবং মেরুদণ্ড থাকে শক্ত।” ফরিদা খানমের জীবন আমাদের এই সত্যটিই মনে করিয়ে দেয়।
>
একজন সৎ, দক্ষ এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে ফরিদা খানম এখন প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে থেকে দেশসেবায় নিয়োজিত। তার এই লড়াকু জীবন বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের নবীন কর্মকর্তাদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, প্রতিকূলতা যতই আসুক, সত্য ও আদর্শের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় সুনিশ্চিত।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ আটক

ফরিদা খানম: মেধা ও সততার এক লড়াকু প্রতিচ্ছবি

আপলোড সময় : ০৭:২৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ইতিহাসে কিছু নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকে কেবল তাদের পদমর্যাদার জন্য নয়, বরং তাদের ধৈর্য, পেশাদারিত্ব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের জন্য। এমনই একজন লড়াকু ও মেধাবী কর্মকর্তা ফরিদা খানম। বিসিএস (প্রশাসন) ২৫তম ব্যাচের এই চৌকস কর্মকর্তা বর্তমানে ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
### সংগ্রাম ও ত্যাগের পটভূমি
গোপালগঞ্জের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া ফরিদা খানমের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি ছিল অত্যন্ত মজবুত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী এই শিক্ষার্থী ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি ছিলেন অবিচল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী *রোকেয়া হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি* হিসেবে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন নেতৃত্বের গুণে গুণান্বিত এবং গণতান্ত্রিক চেতনার একনিষ্ঠ ধারক।
### পেশাগত জীবনে বঞ্চনা ও দৃঢ়তা
ফরিদা খানমের ক্যারিয়ারের একটি বড় অংশ কেটেছে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে। বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের আমলে প্রশাসনের ভেতর চরম বৈষম্যের শিকার হন তিনি। নিজের বাড়ি গোপালগঞ্জে হওয়া সত্ত্বেও এবং তৎকালীন ক্ষমতার কেন্দ্রের খুব কাছের মানুষ হওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও, তিনি কখনও অন্যায়ের সাথে আপস করেননি। তিনি চাইলে সহজেই ফ্যাসিস্ট সরকারের থেকে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা নিতে পারতেন, কিন্তু তিনি সেই পথে হাঁটেননি।
শহীদ জিয়ার আদর্শকে হৃদয়ে লালন করা এই কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে প্রাপ্য সম্মান ও অবস্থান থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। তবে এই দীর্ঘ বঞ্চনার সময়েও তিনি ভেঙে পড়েননি; বরং নিজের পেশাদারিত্ব এবং সততাকে আঁকড়ে ধরে ধৈর্য ধরেছেন।
### ইতিহাসের পাতায় নাম
সময় ও ন্যায়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ফরিদা খানম তার যোগ্যতার প্রকৃত স্বীকৃতি পেয়েছেন। *চট্টগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক* হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে যোগদান করেন এবং তিনি বর্তমানে *ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক* হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং জেলায় প্রথম নারী ডিসি হিসেবে তার নিয়োগ নারী নেতৃত্বের ক্ষমতায়নে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
> “বঞ্চনা মানুষকে থামিয়ে দিতে পারে না, যদি তার লক্ষ্য থাকে স্থির এবং মেরুদণ্ড থাকে শক্ত।” ফরিদা খানমের জীবন আমাদের এই সত্যটিই মনে করিয়ে দেয়।
>
একজন সৎ, দক্ষ এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে ফরিদা খানম এখন প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে থেকে দেশসেবায় নিয়োজিত। তার এই লড়াকু জীবন বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের নবীন কর্মকর্তাদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, প্রতিকূলতা যতই আসুক, সত্য ও আদর্শের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় সুনিশ্চিত।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন