পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখওয়া (কেপি) রাজ্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান বর্তমানে একটি সংকটপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ২০২৬ সালে বেলুচিস্তান হামলার সংখ্যা ও হতাহতের দিক থেকে সবচেয়ে অস্থির অঞ্চল হিসেবে পরিণত হয়েছে। ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ‘সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, বেলুচিস্তানে ১,১৪৭টি সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে এবং ২,৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন।
কেপির ৩৬টি জেলার মধ্যে ১২টিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, যার ফলে পাকিস্তান জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করেছে। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান (আইএমপি) নামক দুটি বিদ্রোহী নেটওয়ার্ক আফগানিস্তানে তাদের আস্তানা থেকে হামলা চালিয়ে আসছে। তালিবানের ক্ষমতায় আসার পর এই নেটওয়ার্কগুলোর কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌশলকে একটি জটিল ও পরিবর্তনশীল হুমকি পরিস্থিতির মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি করতে হবে। খাইবার পাখতুনখওয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে একটি সামগ্রিক পর্যবেক্ষণই শান্তি পুনর্প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে। সন্ত্রাসবাদের সূচনা কেপি-তে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর শাসনের আগের সময় থেকেই শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের তালিবানপন্থী আফগান নীতি, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থানের ঘাটতি এবং কাঠামোগত সংস্কারের অভাব কেপি-র বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য দায়ী। সেনাবাহিনী সন্ত্রাসবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অভাবের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি স্থায়ী হয়নি।
খাইবার পাখতুনখওয়া-তে জরুরি অবস্থা ঘোষণা পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য একটি বিচক্ষণ ও সক্রিয় নীতি প্রয়োজন, অন্যথায় কেবল সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা স্বল্পমেয়াদী স্বস্তি দিতে পারে।
অনলাইন ডেক্স 




















