ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলপুরে খরায় আমন চাষ ব্যাহত, কৃষকেরা উদ্বিগ্ন

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০১:৪৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০৩ Time View

ময়মনসিংহের ফুলপুরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় চলতি মৌসুমে আমনের চারা রোপণ ও পরিচর্যা ব্যাহত হচ্ছে। আগস্ট মাস শেষ হলেও ভাদ্রের ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না থাকায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। পানির অভাবে অনেক কৃষক ক্ষেতে চারা রোপণ করতে পারছেন না।

নদী-নালা ও খাল-বিল পানিশূন্য হয়ে পড়ায় রোপণ করা ক্ষেতও শুকিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, পানির অভাবে অনেক ক্ষেতে রোপণ করা চারা মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বৃষ্টির ওপর নির্ভর করতে না পেরে অনেক কৃষক শ্যালো ও বৈদ্যুতিক সেচপাম্প চালিয়ে পানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পূর্ব বাখাই গ্রামের কৃষক জামাল ভূঁইয়া বলেন, “বৃষ্টি অইতাছে না, হেইডার লাইগা আমন ধান নিয়া খুব বিপদে আছি। জমিত পানি নাই, ধান শুকাইয়া যাইতাছে। বাধ্য অইয়া পাম্প দিয়া পানি দিতাছি, এতে খরচও বাড়তাছে।” কৃষকরা জানান, বর্ষার প্রাকৃতিক পানিতেই আমন চাষের চাহিদা মেটে।

ফুলপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২২ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে। এ যাবৎ রোপণ করা হয়েছে ২১ হাজার ৩০ হেক্টর। এর মধ্যে ১৫ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে উফশী, এক হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও পাঁচ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন চাষ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাদিয়া ফেরদৌসি বলেন, “প্রাকৃতিক বৃষ্টির ঘাটতির কারণে আমন রোপণ ও গাছের বৃদ্ধি সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হলেও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।” তিনি জানান, বৃষ্টির পানির বিকল্প হিসেবে নদী ও খালের পানি ব্যবহার এবং পাম্পের সাহায্যে সেচ দেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী: সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে

ফুলপুরে খরায় আমন চাষ ব্যাহত, কৃষকেরা উদ্বিগ্ন

আপলোড সময় : ০১:৪৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলপুরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় চলতি মৌসুমে আমনের চারা রোপণ ও পরিচর্যা ব্যাহত হচ্ছে। আগস্ট মাস শেষ হলেও ভাদ্রের ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না থাকায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। পানির অভাবে অনেক কৃষক ক্ষেতে চারা রোপণ করতে পারছেন না।

নদী-নালা ও খাল-বিল পানিশূন্য হয়ে পড়ায় রোপণ করা ক্ষেতও শুকিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, পানির অভাবে অনেক ক্ষেতে রোপণ করা চারা মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বৃষ্টির ওপর নির্ভর করতে না পেরে অনেক কৃষক শ্যালো ও বৈদ্যুতিক সেচপাম্প চালিয়ে পানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পূর্ব বাখাই গ্রামের কৃষক জামাল ভূঁইয়া বলেন, “বৃষ্টি অইতাছে না, হেইডার লাইগা আমন ধান নিয়া খুব বিপদে আছি। জমিত পানি নাই, ধান শুকাইয়া যাইতাছে। বাধ্য অইয়া পাম্প দিয়া পানি দিতাছি, এতে খরচও বাড়তাছে।” কৃষকরা জানান, বর্ষার প্রাকৃতিক পানিতেই আমন চাষের চাহিদা মেটে।

ফুলপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২২ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে। এ যাবৎ রোপণ করা হয়েছে ২১ হাজার ৩০ হেক্টর। এর মধ্যে ১৫ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে উফশী, এক হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ও পাঁচ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন চাষ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাদিয়া ফেরদৌসি বলেন, “প্রাকৃতিক বৃষ্টির ঘাটতির কারণে আমন রোপণ ও গাছের বৃদ্ধি সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হলেও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।” তিনি জানান, বৃষ্টির পানির বিকল্প হিসেবে নদী ও খালের পানি ব্যবহার এবং পাম্পের সাহায্যে সেচ দেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন