ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৫ বছর ধরে পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন নার্গিস খাতুন

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২:০১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ২০৪ Time View

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ৩৫ বছর ধরে পায়ে হেঁটে সংবাদপত্র বিক্রি করছেন নার্গিস খাতুন। পঞ্চাশোর্ধ্ব এই নারী সামাজিক প্রতিকূলতা ও পারিবারিক অবহেলার বিরুদ্ধে লড়াই করে আজ স্বনির্ভরতার এক উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।

নার্গিসের জীবনসংগ্রাম শুরু হয় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে। কিশোরী বয়সে বিয়ের পর সতীনের সংসারে বনিবনা না হওয়ায় ১৯৯০ সালে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে চাইলেও ভাইদের আপত্তির কারণে সেখানে জায়গা পাননি। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে তিনি সংবাদপত্র বিক্রির পেশা বেছে নেন।

শুরুতে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও নার্গিস হার মানেননি। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন দেড় থেকে দুইশ কপি পত্রিকা বিক্রি করেন। কাজিপুরের অলিতে-গলিতে তিনি খবরের কাগজ হাতে ঘুরে বেড়ান। দীর্ঘদিনের এই আয়ে তিনি ৫ শতক জমি কিনে নিজের আবাসন গড়েছেন। বর্তমানে তার পরিবারে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনি রয়েছেন।

নার্গিস খাতুন জানান, পত্রিকা বিক্রির আগে তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ ও কাঁথা সেলাইয়ের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শ্রমের সঠিক মজুরি না পাওয়ায় তিনি এই পেশায় আসেন। বয়স বাড়ার কারণে আগের মতো শারীরিক শক্তি না থাকলেও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন কয়েক মাইল পথ পাড়ি দেন।

নার্গিস বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কারো ওপর বোঝা হতে চাইনি। মজুরি বৈষম্যের কারণে কাগজ বিক্রি শুরু করি। এখন বয়স হয়েছে, আগের মতো হাঁটতে কষ্ট হয়, তবু পেটের দায়ে কাজ করছি।’

নার্গিস খাতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী কাজিপুর এলাকার মানুষের কাছে একটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন নারীও আত্মনির্ভরশীল হতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মতিঝিলে রথযাত্রার পথে উদ্ধার হলো পাইপ বোমা, পুলিশ জানিয়েছে শর্ট সার্কিটের কথা

৩৫ বছর ধরে পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন নার্গিস খাতুন

আপলোড সময় : ১২:০১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ৩৫ বছর ধরে পায়ে হেঁটে সংবাদপত্র বিক্রি করছেন নার্গিস খাতুন। পঞ্চাশোর্ধ্ব এই নারী সামাজিক প্রতিকূলতা ও পারিবারিক অবহেলার বিরুদ্ধে লড়াই করে আজ স্বনির্ভরতার এক উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।

নার্গিসের জীবনসংগ্রাম শুরু হয় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে। কিশোরী বয়সে বিয়ের পর সতীনের সংসারে বনিবনা না হওয়ায় ১৯৯০ সালে বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর তিনি বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিতে চাইলেও ভাইদের আপত্তির কারণে সেখানে জায়গা পাননি। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে তিনি সংবাদপত্র বিক্রির পেশা বেছে নেন।

শুরুতে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও নার্গিস হার মানেননি। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন দেড় থেকে দুইশ কপি পত্রিকা বিক্রি করেন। কাজিপুরের অলিতে-গলিতে তিনি খবরের কাগজ হাতে ঘুরে বেড়ান। দীর্ঘদিনের এই আয়ে তিনি ৫ শতক জমি কিনে নিজের আবাসন গড়েছেন। বর্তমানে তার পরিবারে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনি রয়েছেন।

নার্গিস খাতুন জানান, পত্রিকা বিক্রির আগে তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ ও কাঁথা সেলাইয়ের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শ্রমের সঠিক মজুরি না পাওয়ায় তিনি এই পেশায় আসেন। বয়স বাড়ার কারণে আগের মতো শারীরিক শক্তি না থাকলেও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন কয়েক মাইল পথ পাড়ি দেন।

নার্গিস বলেন, ‘স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কারো ওপর বোঝা হতে চাইনি। মজুরি বৈষম্যের কারণে কাগজ বিক্রি শুরু করি। এখন বয়স হয়েছে, আগের মতো হাঁটতে কষ্ট হয়, তবু পেটের দায়ে কাজ করছি।’

নার্গিস খাতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী কাজিপুর এলাকার মানুষের কাছে একটি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন নারীও আত্মনির্ভরশীল হতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন