সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান নেই বলে সরকারি দলের যুক্তির সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যদি সংবিধানে গণভোটের প্রভিশন না থাকে, তবে ২০২৬ সালেও কোনো নির্বাচন হওয়ার সুযোগ নেই। সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অভিপ্রায়ই হলো সর্বোচ্চ আইন। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জনগণের ইচ্ছাতেই বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে এবং সেই আদেশের আলোকেই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি দ্বৈতনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বলেন, সংসদ নির্বাচন মানা হবে অথচ গণভোট অস্বীকার করা হবে—এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়।
বিরোধীদলীয় নেতা পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, সরকার গঠনের জন্য পাওয়া ৫১ শতাংশ ভোট যদি বৈধ হয়, তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়া ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের রায়কে কেন অস্বীকার করা হবে? তিনি দাবি করেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক ধারা ফেরাতে বিরোধী দল ৫১ শতাংশ ভোটের সরকার মেনে নিয়েছে।
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সরকারি দল শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদের ভেতরে ও রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন জানান, বিরোধী দল শুরু থেকেই গণভোটের রায় মেনে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে, কিন্তু সরকার সংস্কারের বদলে নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। এর ফলে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছে।
অনলাইন ডেক্স 






















