ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৩:১৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ২১৫ Time View

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে না হতেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ২২ এপ্রিল এই যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই পেন্টাগন আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা ওই অঞ্চলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর এনডিটিভির।

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ’-এর সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার এবং ‘বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’-এর সঙ্গে আরও ৪ হাজার ২০০ নৌ ও মেরিন সেনা চলতি মাসের শেষ নাগাদ এ অঞ্চলে পৌঁছাবে। বর্তমানে ইরানি তৎপরতা মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের সাথে চলমান এ সংঘাত খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘যদি তারা বুদ্ধিমানের মতো কাজ করে, তবে যুদ্ধ দ্রুতই থামবে।’ ট্রাম্পের মতে, সংঘাত মিটে গেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর গত রোববার ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, গত ৩৬ ঘণ্টায় তারা ইরানের সমুদ্রপথের বাণিজ্য প্রায় ৯০ শতাংশ অচল করে দিয়েছে। প্রয়োজনে ইরানি জাহাজে তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনাও করছে মার্কিন বাহিনী। 

অন্যদিকে, এ অবরোধকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ‘পূর্বাভাস’ হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানি সামরিক কমান্ডের প্রধান আলি আবদুল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে কোনো জাহাজকে অন্যায়ভাবে বাধা দেওয়া হলে ইরান তা সহ্য করবে না। আমরা আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে যেকোনো ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

সংঘাত নিরসনে চলতি সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও, যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা আর পাল্টাপাল্টি হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন মেঘাচ্ছন্ন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিকাল ৩টা থেকে গ্যাস থাকবে না—কোন কোন এলাকায় প্রভাব পড়বে দেখুন

মধ্যপ্রাচ্যে আরও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপলোড সময় : ০৩:১৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে না হতেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ২২ এপ্রিল এই যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই পেন্টাগন আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা ওই অঞ্চলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর এনডিটিভির।

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ’-এর সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার এবং ‘বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’-এর সঙ্গে আরও ৪ হাজার ২০০ নৌ ও মেরিন সেনা চলতি মাসের শেষ নাগাদ এ অঞ্চলে পৌঁছাবে। বর্তমানে ইরানি তৎপরতা মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের সাথে চলমান এ সংঘাত খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘যদি তারা বুদ্ধিমানের মতো কাজ করে, তবে যুদ্ধ দ্রুতই থামবে।’ ট্রাম্পের মতে, সংঘাত মিটে গেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর গত রোববার ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, গত ৩৬ ঘণ্টায় তারা ইরানের সমুদ্রপথের বাণিজ্য প্রায় ৯০ শতাংশ অচল করে দিয়েছে। প্রয়োজনে ইরানি জাহাজে তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনাও করছে মার্কিন বাহিনী। 

অন্যদিকে, এ অবরোধকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ‘পূর্বাভাস’ হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানি সামরিক কমান্ডের প্রধান আলি আবদুল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে কোনো জাহাজকে অন্যায়ভাবে বাধা দেওয়া হলে ইরান তা সহ্য করবে না। আমরা আমদানি-রপ্তানি সচল রাখতে যেকোনো ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

সংঘাত নিরসনে চলতি সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও, যুদ্ধজাহাজের আনাগোনা আর পাল্টাপাল্টি হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন মেঘাচ্ছন্ন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন