বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যবসায়িক ধীরগতির কারণে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব ঘাটতি ২৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এনবিআরের তিনটি অনুবিভাগের মধ্যে আয়কর খাতে কিছুটা উন্নতি হলেও কাস্টমস ও ভ্যাটে রাজস্ব আহরণে বড় ধস দেখা গেছে। এনবিআরের গড় প্রবৃদ্ধি এই সময়ে নেতিবাচক হয়েছে।
সূত্র জানায়, জুলাই-আগস্ট মাসে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। কিন্তু এনবিআর আদায় করেছে ৫১ হাজার ৮৯২ কোটি টাকা, যার ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। গড় প্রবৃদ্ধি মাইনাস ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা করোনা মহামারির সময়ের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির চেয়েও বেশি।
একাধিক এনবিআর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের ভ্যাটের কিছু পলিসির কারণে রাজস্ব আহরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে তিন মাস অন্তর ভ্যাট রিটার্ন জমার সুযোগ দেওয়ার কারণে অনেক ব্যবসায়ী রিটার্ন জমা দেননি। কাস্টমসে ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে প্রবৃদ্ধি কমেছে।
চলতি অর্থবছরে ভ্যাট আদায়ে ১৪ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। কাস্টমসে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে এনবিআরের ভ্যাট বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য সৈয়দ মুসফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো রিটার্ন জমা না দেওয়ার কারণে ভ্যাট আহরণে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ভ্যাট এখনও আসেনি।
অনলাইন ডেক্স 
























