ঢাকা ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ পর্যন্ত পদে থাকছেন বর্তমান উপদেষ্টারা

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০২:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২১১ Time View

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হবে এবং বিদায় নেবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়া পর্যন্ত পদে থাকবেন বর্তমান উপদেষ্টারা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গেজেট জারি করা হবে। এরপর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এর মাধ্যমে সংসদ গঠিত হয়। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোট সংসদ নেতা নির্বাচন করার পর তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হবে এবং বর্তমান উপদেষ্টারা বিদায় নেবেনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

কোনো দল বা জোট কমপক্ষে ১৫১টি আসন পেলেই একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শর্ত পূর্ণ হয়। সাধারণত একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের প্রধানকেই সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বেশি আসনে জয়ী দলকে তখন সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সে ক্ষেত্রে ওই দলকে অন্য দলের সমর্থন জোগাড় করতে হয়।

নতুন মন্ত্রিসভার দাপ্তরিক কাজ করে থাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। অতিথিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। রাষ্ট্রপতি প্রথমে সরকারপ্রধানকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়।

মন্ত্রিসভা যেদিন হবে, সেদিনই আমাদের কার্যক্রম শেষ। এরপর আমরা চলে যাব।নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়া পর্যন্ত বর্তমান উপদেষ্টাদের পদে থাকা প্রসঙ্গে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভা যেদিন হবে, সেদিনই আমাদের কার্যক্রম শেষ। এরপর আমরা চলে যাব।’ প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পেয়েছেন কি না– জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি। কিন্তু আমি আমার পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। প্রসেস কী হবে এটা হয়তো অনেকে জানে না। যেটা আমি জানি, সেটুকু আমি বললাম। এটা অফিসিয়াল বা আনঅফিসিয়াল সেটা বলব না। মন্ত্রিসভা গঠিত হলেই আগের মন্ত্রিসভার বিলুপ্তি।’

সেই প্রসেস হতে তো নির্বাচনের পরে আরও দুই-তিন দিনও সময় লাগতে পারে। সেটা যদি সোম-মঙ্গলবার হয়, তার মানে রবি-সোমবারও কি আপনারা অফিস করবেন– এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রবি-সোমবার যদি আমাকে কেউ চলে যেতে না বলে, তাহলে অবশ্যই অফিস করব।’ ১৫ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট হতে পারে বলেও ধারণা দেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা।

যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, আমরা জাতি হিসেবে তাদের পেছনে দাঁড়াবউপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গত মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শেষ কার্যদিবস অতিবাহিত করেছি। যদিও আইন অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ পর্যন্ত আমি উপদেষ্টা পদে বহাল থাকব, নির্বাচনের পর নৈতিক বিবেচনায় আমি আর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার থেকে বিরত থাকব।’

তিনি বলেন, ‘জাতির সেবার সুযোগ পাওয়া যেকোনো নাগরিকের জন্য ভাগ্যের বিষয়। এ সৌভাগ্যের জন্য আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, সহিংসতামুক্ত ও উৎসবমুখর হোক। আমি আগেও বেশ কয়েকবার বলেছি, যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, আমরা জাতি হিসেবে তাদের পেছনে দাঁড়াব। নতুন সরকারের জন্য শুভকামনা।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আগামীকালের নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে সে দলই সরকার গঠন করবে। সেই দলের প্রধানকে সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হবে এবং বর্তমান উপদেষ্টারা বিদায় নেবেন।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ পর্যন্ত পদে থাকছেন বর্তমান উপদেষ্টারা

আপলোড সময় : ০২:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হবে এবং বিদায় নেবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়া পর্যন্ত পদে থাকবেন বর্তমান উপদেষ্টারা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার গেজেট জারি করা হবে। এরপর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এর মাধ্যমে সংসদ গঠিত হয়। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোট সংসদ নেতা নির্বাচন করার পর তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হবে এবং বর্তমান উপদেষ্টারা বিদায় নেবেনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

কোনো দল বা জোট কমপক্ষে ১৫১টি আসন পেলেই একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শর্ত পূর্ণ হয়। সাধারণত একক বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের প্রধানকেই সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বেশি আসনে জয়ী দলকে তখন সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সে ক্ষেত্রে ওই দলকে অন্য দলের সমর্থন জোগাড় করতে হয়।

নতুন মন্ত্রিসভার দাপ্তরিক কাজ করে থাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়। অতিথিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। রাষ্ট্রপতি প্রথমে সরকারপ্রধানকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়।

মন্ত্রিসভা যেদিন হবে, সেদিনই আমাদের কার্যক্রম শেষ। এরপর আমরা চলে যাব।নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়া পর্যন্ত বর্তমান উপদেষ্টাদের পদে থাকা প্রসঙ্গে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভা যেদিন হবে, সেদিনই আমাদের কার্যক্রম শেষ। এরপর আমরা চলে যাব।’ প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পেয়েছেন কি না– জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি। কিন্তু আমি আমার পুরনো অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। প্রসেস কী হবে এটা হয়তো অনেকে জানে না। যেটা আমি জানি, সেটুকু আমি বললাম। এটা অফিসিয়াল বা আনঅফিসিয়াল সেটা বলব না। মন্ত্রিসভা গঠিত হলেই আগের মন্ত্রিসভার বিলুপ্তি।’

সেই প্রসেস হতে তো নির্বাচনের পরে আরও দুই-তিন দিনও সময় লাগতে পারে। সেটা যদি সোম-মঙ্গলবার হয়, তার মানে রবি-সোমবারও কি আপনারা অফিস করবেন– এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রবি-সোমবার যদি আমাকে কেউ চলে যেতে না বলে, তাহলে অবশ্যই অফিস করব।’ ১৫ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট হতে পারে বলেও ধারণা দেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা।

যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, আমরা জাতি হিসেবে তাদের পেছনে দাঁড়াবউপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গত মঙ্গলবার রাতে বলেন, ‘আজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শেষ কার্যদিবস অতিবাহিত করেছি। যদিও আইন অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ পর্যন্ত আমি উপদেষ্টা পদে বহাল থাকব, নির্বাচনের পর নৈতিক বিবেচনায় আমি আর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার থেকে বিরত থাকব।’

তিনি বলেন, ‘জাতির সেবার সুযোগ পাওয়া যেকোনো নাগরিকের জন্য ভাগ্যের বিষয়। এ সৌভাগ্যের জন্য আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, সহিংসতামুক্ত ও উৎসবমুখর হোক। আমি আগেও বেশ কয়েকবার বলেছি, যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, আমরা জাতি হিসেবে তাদের পেছনে দাঁড়াব। নতুন সরকারের জন্য শুভকামনা।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আগামীকালের নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে সে দলই সরকার গঠন করবে। সেই দলের প্রধানকে সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। এর মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হবে এবং বর্তমান উপদেষ্টারা বিদায় নেবেন।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন