ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্বতারোহীদের মূত্র ও জ্বালানির তাপের কারণে গলছে এভারেস্টের হিমবাহ: গবেষণা

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০২:০০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০১ Time View

এভারেস্ট বেজ ক্যাম্পে পর্বতারোহীদের মূত্র ও পোড়ানো জ্বালানির তাপের কারণে প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার ৫০০ টন বরফ ও তুষার গলে যাচ্ছে বলে এক গবেষণায় জানা গেছে। আন্তর্জাতিক গবেষকদল নেপালের খুম্বু হিমবাহ নিয়ে এই গবেষণা পরিচালনা করেছে। গবেষণার ফলাফল ‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

বসন্তের পর্বতারোহণ মৌসুমে বেজ ক্যাম্পে হাজার হাজার পর্বতারোহী, গাইড ও সহায়ক কর্মী অবস্থান করেন। এই সময়ে ক্যাম্পটি একটি ব্যস্ত পর্যটন গ্রামে পরিণত হয়, যেখানে বিভিন্ন সুবিধা যেমন এসপ্রেসো ক্যাফে, টেলিভিশন, উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং গরম পানির ব্যবস্থা থাকে।

গবেষকরা ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমের ৫০ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ওই সময়ে ১ হাজার ৬০০টি তাঁবুতে রান্না ও উষ্ণতার জন্য ৮২৪টি এলপিজি ক্যানিস্টার, ১৮ হাজার ৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫ হাজার ১৩০ লিটার পেট্রোল ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই জ্বালানি পোড়ানো ও মানুষের মূত্র থেকে উৎপন্ন তাপের ফলে প্রায় ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ মেগাজুল তাপশক্তি তৈরি হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই তাপের ফলে প্রায় ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট। এছাড়া, গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতি দিন সেখানে প্রায় ৬ হাজার লিটার মূত্র ত্যাগ করা হয়, যা বরফ গলানোর ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করে।

গবেষকদল জানিয়েছে, এভারেস্টের হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। তবে তারা বেজ ক্যাম্পের স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণযোগ্য নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

লং মার্চের পথসভাগুলোর স্থান জানালেন জামায়াতের সেক্রেটারি

পর্বতারোহীদের মূত্র ও জ্বালানির তাপের কারণে গলছে এভারেস্টের হিমবাহ: গবেষণা

আপলোড সময় : ০২:০০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এভারেস্ট বেজ ক্যাম্পে পর্বতারোহীদের মূত্র ও পোড়ানো জ্বালানির তাপের কারণে প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার ৫০০ টন বরফ ও তুষার গলে যাচ্ছে বলে এক গবেষণায় জানা গেছে। আন্তর্জাতিক গবেষকদল নেপালের খুম্বু হিমবাহ নিয়ে এই গবেষণা পরিচালনা করেছে। গবেষণার ফলাফল ‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

বসন্তের পর্বতারোহণ মৌসুমে বেজ ক্যাম্পে হাজার হাজার পর্বতারোহী, গাইড ও সহায়ক কর্মী অবস্থান করেন। এই সময়ে ক্যাম্পটি একটি ব্যস্ত পর্যটন গ্রামে পরিণত হয়, যেখানে বিভিন্ন সুবিধা যেমন এসপ্রেসো ক্যাফে, টেলিভিশন, উচ্চগতির ইন্টারনেট এবং গরম পানির ব্যবস্থা থাকে।

গবেষকরা ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমের ৫০ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ওই সময়ে ১ হাজার ৬০০টি তাঁবুতে রান্না ও উষ্ণতার জন্য ৮২৪টি এলপিজি ক্যানিস্টার, ১৮ হাজার ৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫ হাজার ১৩০ লিটার পেট্রোল ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই জ্বালানি পোড়ানো ও মানুষের মূত্র থেকে উৎপন্ন তাপের ফলে প্রায় ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ মেগাজুল তাপশক্তি তৈরি হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই তাপের ফলে প্রায় ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ ও তুষার গলানোর জন্য যথেষ্ট। এছাড়া, গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতি দিন সেখানে প্রায় ৬ হাজার লিটার মূত্র ত্যাগ করা হয়, যা বরফ গলানোর ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করে।

গবেষকদল জানিয়েছে, এভারেস্টের হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার প্রধান কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। তবে তারা বেজ ক্যাম্পের স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণযোগ্য নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন