২০১১ সালে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পতনের মাধ্যমে মুয়াম্মার গাদ্দাফির ৪২ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। ১৫ বছর পরও দেশটির তরুণ ও দক্ষ পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে চলে যাচ্ছেন। এতে দক্ষ জনশক্তি হারানোর পাশাপাশি দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদও কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী স্থপতি সারাহ মিজরান ত্রিপোলির পতনের সময় কিশোরী ছিলেন এবং আট বছর আগে যুক্তরাজ্যে চলে যান। তিনি দক্ষিণ ইংল্যান্ডে স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং টেকসই স্থাপত্য নিয়ে কাজ করছেন। মিজরান বলেন, তরুণ পেশাজীবীরা দেশ ছাড়লে লিবিয়া সম্ভাবনা হারায়।
৩৬ বছর বয়সী নাদের এলগাদি ২০১৪ সালে ত্রিপোলিতে একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন। দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান। এলগাদি জানান, দেশে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও অধিকারকর্মীদের ওপর হুমকি বাড়ায় তিনি যুক্তরাজ্যে থেকে যান। ২০১৮ সালে তিনি ‘লিবিয়া ইন দ্য ইউকে’ নামে একটি সাংস্কৃতিক দাতব্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
লিবিয়ার শাসনব্যবস্থা ও অর্থনীতিতে দক্ষ জনশক্তির অভাব নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের ভিজিটিং ফেলো তারেক মেগেরিসি বলেন, ২০১১ সালের বিপ্লবের পর পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয় এবং দুর্নীতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, যদি দেশে কার্যকর সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে বিদেশে থাকা দক্ষ জনশক্তি দ্রুত ফিরে আসবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক ঝুঁকি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিআরআই মেনাসের সহযোগী টবি চিতায়াত বলেন, লিবিয়ার মেধাপাচারের প্রভাব নিয়ে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি মনে করেন, দেশটির বিভক্তি ও দুর্নীতির তুলনায় দক্ষ জনশক্তি বিদেশে চলে যাওয়ার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম।
অনলাইন ডেক্স 
























