ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ সন্তানের বাবা-মা, খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের দম্পতি

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৩:০৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ২০১ Time View

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের বানিয়াগাঁতী গ্রামে ৯০ বছর বয়সী আছাব আলী ও ৮০ বছর বয়সী স্ত্রী সালেকা বেগম চরম দারিদ্র্য ও অসুস্থতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের ১০ সন্তানের মধ্যে কেউই তাদের প্রয়োজনের সময় পাশে নেই, ফলে দুবেলা খাবার জোগাড় করতে প্রতিবেশীদের সহায়তা নিতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আছাব আলী বয়সের কারণে প্রায় চলাফেরা করতে পারছেন না এবং তার স্ত্রীও নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তবুও সালেকা বেগম প্রতিদিন স্বামীর দেখভাল করছেন এবং সাহায্যের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আছাব আলী একসময় কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের বড় করেছেন, কিন্তু এখন তারা বাবা-মায়ের খোঁজ নিচ্ছেন না। ফলে খাদ্য, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন।

আছাব আলী ও সালেকা বেগমের বসতঘর জরাজীর্ণ এবং অস্বাস্থ্যকর। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নেই। স্থানীয়রা তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস জানিয়েছেন, আছাব আলী ও সালেকা বেগমের জন্য সহায়তা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য। সামান্য সহযোগিতাও তাদের জীবনের শেষ সময়টুকু স্বস্তির করে তুলতে পারে।’

সালেকা বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা আর কিছু চাই না। শুধু দুবেলা ভাত খেয়ে, একটু শান্তিতে বাকি জীবনটা কাটাতে চাই।’ ইউপি সদস্য মো. সোহাগ মণ্ডল জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের জন্য বয়স্ক ভাতার কার্ড করা হয়েছে, তবে সন্তানদের অবহেলা তাদের কষ্ট বাড়াচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ ফাইনালে ট্রাম্প-মামদানি: সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন

১০ সন্তানের বাবা-মা, খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের দম্পতি

আপলোড সময় : ০৩:০৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের বানিয়াগাঁতী গ্রামে ৯০ বছর বয়সী আছাব আলী ও ৮০ বছর বয়সী স্ত্রী সালেকা বেগম চরম দারিদ্র্য ও অসুস্থতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের ১০ সন্তানের মধ্যে কেউই তাদের প্রয়োজনের সময় পাশে নেই, ফলে দুবেলা খাবার জোগাড় করতে প্রতিবেশীদের সহায়তা নিতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আছাব আলী বয়সের কারণে প্রায় চলাফেরা করতে পারছেন না এবং তার স্ত্রীও নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তবুও সালেকা বেগম প্রতিদিন স্বামীর দেখভাল করছেন এবং সাহায্যের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আছাব আলী একসময় কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের বড় করেছেন, কিন্তু এখন তারা বাবা-মায়ের খোঁজ নিচ্ছেন না। ফলে খাদ্য, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন।

আছাব আলী ও সালেকা বেগমের বসতঘর জরাজীর্ণ এবং অস্বাস্থ্যকর। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নেই। স্থানীয়রা তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস জানিয়েছেন, আছাব আলী ও সালেকা বেগমের জন্য সহায়তা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য। সামান্য সহযোগিতাও তাদের জীবনের শেষ সময়টুকু স্বস্তির করে তুলতে পারে।’

সালেকা বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা আর কিছু চাই না। শুধু দুবেলা ভাত খেয়ে, একটু শান্তিতে বাকি জীবনটা কাটাতে চাই।’ ইউপি সদস্য মো. সোহাগ মণ্ডল জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের জন্য বয়স্ক ভাতার কার্ড করা হয়েছে, তবে সন্তানদের অবহেলা তাদের কষ্ট বাড়াচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন