ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাহাড়ি ঢলে চকরিয়ার কৃষিতে বিপর্যয়

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০১:৫১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ২০২ Time View

টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি নেমে গেলেও কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। স্থানীয় কৃষি খাতে সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে, যেখানে মাঠজুড়ে পচা কাদাপানির গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন রকমের সবজি গাছ মরে পড়ে আছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দুই উপজেলায় ১৩ হাজার ৮৫২ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ১ হাজার ৬৬১ হেক্টর কৃষি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমনের বীজতলা, আউশ ধান এবং গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির আবাদ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠজুড়ে পচা কাদা-পানির দুর্গন্ধ। অধিকাংশ সবজি ক্ষেতের গাছ মরে গেছে। কৃষকরা জানান, তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।

মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের কৃষক শামসুল আলম বলেন, তিনি ৫০ শতক জমিতে করলা, বেগুন ও শসা চাষ করেছিলেন, যার ব্যয় ছিল প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। বন্যার পানিতে সব গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের কৃষক ফরহাদুল ইসলাম বলেন, তার বীজতলা তলিয়ে গেছে এবং তিনি খাদ্য সংকটে পড়েছেন।

চকরিয়া উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন পুতু সরকারের কাছে দ্রুত সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কৃষকরা আজ অসহায় অবস্থায় রয়েছেন এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হবে। আপাতত কিছু কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অসুস্থ হলেন মির্জা ফখরুল

পাহাড়ি ঢলে চকরিয়ার কৃষিতে বিপর্যয়

আপলোড সময় : ০১:৫১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি নেমে গেলেও কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। স্থানীয় কৃষি খাতে সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে, যেখানে মাঠজুড়ে পচা কাদাপানির গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন রকমের সবজি গাছ মরে পড়ে আছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দুই উপজেলায় ১৩ হাজার ৮৫২ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ১ হাজার ৬৬১ হেক্টর কৃষি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমনের বীজতলা, আউশ ধান এবং গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির আবাদ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠজুড়ে পচা কাদা-পানির দুর্গন্ধ। অধিকাংশ সবজি ক্ষেতের গাছ মরে গেছে। কৃষকরা জানান, তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।

মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের কৃষক শামসুল আলম বলেন, তিনি ৫০ শতক জমিতে করলা, বেগুন ও শসা চাষ করেছিলেন, যার ব্যয় ছিল প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। বন্যার পানিতে সব গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের কৃষক ফরহাদুল ইসলাম বলেন, তার বীজতলা তলিয়ে গেছে এবং তিনি খাদ্য সংকটে পড়েছেন।

চকরিয়া উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন পুতু সরকারের কাছে দ্রুত সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কৃষকরা আজ অসহায় অবস্থায় রয়েছেন এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হবে। আপাতত কিছু কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন