ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে ৭৬ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০১:০০:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০২ Time View

দেশ থেকে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগে দেশে ও বিদেশে থাকা প্রায় ৭৬ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ জব্দ, ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই সম্পদের মধ্যে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির শেয়ার, বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব এবং বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব–সম্পর্কিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এই তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতির অনুপস্থিতিতে সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশের চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার উদ্যোগসমূহের সারসংক্ষেপ’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, ঋণের অর্থ অবৈধভাবে স্থানান্তর ও বিদেশে পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীকে নির্বাচিত করা হয়েছে, যার মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও ওরিয়ন গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আদালতের আদেশের আওতাধীন মোট সম্পদের মধ্যে দেশের ভেতরে রয়েছে ৫৭ হাজার ৩২৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকার সম্পদ। বিদেশে থাকা মোট সম্পদের মূল্য ১৯ হাজার ৬৮৫৮ কোটি টাকা। পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে ‘অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স’ কাজ করছে।

সম্পদ উদ্ধারে দেওয়ানি কার্যক্রমে কনসোর্টিয়ামভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আটটি ব্যাংককে ছয়টি কনসোর্টিয়ামের লিড ব্যাংক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং কাজ শুরু করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে ৭৬ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে ৭৬ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

আপলোড সময় : ০১:০০:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

দেশ থেকে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগে দেশে ও বিদেশে থাকা প্রায় ৭৬ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ জব্দ, ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই সম্পদের মধ্যে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির শেয়ার, বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব এবং বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ তহবিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব–সম্পর্কিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এই তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতির অনুপস্থিতিতে সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশের চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার উদ্যোগসমূহের সারসংক্ষেপ’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, ঋণের অর্থ অবৈধভাবে স্থানান্তর ও বিদেশে পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীকে নির্বাচিত করা হয়েছে, যার মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও ওরিয়ন গ্রুপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আদালতের আদেশের আওতাধীন মোট সম্পদের মধ্যে দেশের ভেতরে রয়েছে ৫৭ হাজার ৩২৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকার সম্পদ। বিদেশে থাকা মোট সম্পদের মূল্য ১৯ হাজার ৬৮৫৮ কোটি টাকা। পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে ‘অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স’ কাজ করছে।

সম্পদ উদ্ধারে দেওয়ানি কার্যক্রমে কনসোর্টিয়ামভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আটটি ব্যাংককে ছয়টি কনসোর্টিয়ামের লিড ব্যাংক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং কাজ শুরু করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন