৯০ বছর বয়সী জাপানি বডিবিল্ডার তশিসুকে কানাজাওয়া সম্প্রতি অল জাপান মাস্টার্স ফিটনেস চ্যাম্পিয়নশিপের পঁচাশি বছর ও তার বেশি বয়সী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এটি তার উনিশতম জাতীয় শিরোপা। কানাজাওয়ার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর শরীরচর্চা ও নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস।
কানাজাওয়া পঞ্চাশ বছর বয়সে প্রতিযোগিতায় ফেরার পর থেকে মাংস বা মাছ খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন। তার সকালের নাশতায় থাকে ব্রাউন রাইস, নাট্টো ও মিসো স্যুপ। সয়াবিন থেকে তৈরি নাট্টো এবং মিসো স্যুপ তার শরীরের উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের চাহিদা মেটায়। দুপুর ও রাতের খাবারে তিনি ব্রাউন রাইসের সঙ্গে জনপ্রিয় জাপানি মসলা ফুরিকাকে খান।
৩৪ বছর বয়সে প্রতিযোগিতামূলক বডিবিল্ডিং থেকে সরে দাঁড়ালেও পঞ্চাশ বছর বয়সে তিনি আবার এই খেলায় ফিরে আসেন। তার অসুস্থ স্ত্রী স্বামীর খেলায় অংশ নেওয়া দেখে আনন্দ পেতেন, তাই তিনি আবার শুরু করেছিলেন। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরও কানাজাওয়া বডিবিল্ডিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি হলিউড তারকা আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারকে দীর্ঘদিন ধরে আদর্শ হিসেবে মেনে চলছেন।
কানাজাওয়া অবসর নেওয়ার কোনো চিন্তা করছেন না এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ষাট বছর ও তার বেশি বয়সী বিভাগে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, বয়স্ক হওয়া এমন একটি বিষয়, যা কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তবে খাদ্যাভ্যাস ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বয়স্ক হওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করার চেষ্টা করছেন।
তবে চিকিৎসকদের মতে, কানাজাওয়ার জীবনযাপন সবার জন্য একই ফলাফল আশা করা ঠিক নয়। শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার বা শরীরচর্চা দীর্ঘায়ুর নিশ্চয়তা দেয় না। জেনেটিক্স, দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ এবং জীবনযাত্রার নানা বিষয় বয়স ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। কানাজাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিক খাদ্যাভ্যাস তার সাফল্যের বড় অংশ।
অনলাইন ডেক্স 
























