বরিশালের মুলাদীতে সরকারি অনুদানের জন্য মুয়াজ্জিনের তালিকায় নাম না থাকায় এক ইমামকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কাজিরচর ইউনিয়নের ডিক্রীরচর গ্রামের প্যাদারহাট সিকদার বাড়ি বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ইমাম মুফতি মাহফুজুর রহমান (২৯) স্থানীয় মোশাররফ হোসেন রাড়ীর ছেলে। হামলার পর স্থানীয় মুসল্লিরা তাকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, হামলার সাথে জড়িত রয়েছেন ডিক্রীরচর গ্রামের মিজান সিকদার (৪৫) ও তার ছেলে রাকিব সিকদার (১৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার সব মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের তালিকা চাওয়া হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে। প্যাদারহাট সিকদার বাড়ি বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদের পক্ষ থেকে ইমাম মাহফুজুর রহমান মুয়াজ্জিন হিসেবে নূরে আলম সিকদারের নাম পাঠান।
এতে ক্ষুব্ধ হন মুয়াজ্জিন পদে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী রাকিব সিকদার ও তার বাবা মিজান সিকদার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের সঙ্গে ইমামের কথা-কাটাকাটি হয়। বুধবার ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় মাহফুজুর রহমানের ওপর হামলা চালান মিজান ও রাকিব।
হামলার পর আহত ইমাম বলেন, ‘গ্রামের মসজিদ হওয়ায় এখানে নির্দিষ্ট কোনো বেতনভুক্ত মুয়াজ্জিন নেই। নূরে আলম সিকদার ও রাকিব সিকদার দুজনই আজান দেন। তবে নূরে আলম বয়োজ্যেষ্ঠ হওয়ায় মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর নাম তালিকায় দেওয়া হয়েছে।’
এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে আহত ইমামের বাবা মোশাররফ হোসেন রাড়ী বাদী হয়ে মিজান সিকদার ও রাকিব সিকদারকে আসামি করে মুলাদী থানায় মামলা করেন। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনলাইন ডেক্স 
























