বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদী ইউনিয়নে বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি সেতুর মাঝের অংশ ভেঙে খালে পড়ে গেছে। এতে অন্তত পাঁচটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বুধবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চরাদী ইউনিয়নের হলতা বাজার সংলগ্ন হলতা খালের ওপর নির্মিত সেতুতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীপথে বালু বহনকারী নিজাম ডাকুয়ার একটি বাল্কহেড সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর মাঝখানের লোহার পিলারে আঘাত করে। এর ফলে পিলার বেঁকে যায় এবং সেতুর মাঝের অংশের কংক্রিটের স্ল্যাব খালের দিকে নেমে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন ও মানুষের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মাঝখানের অংশ নিচে ধসে পড়ায় চরাদী, হলতা, সন্তোষদী, মকিমাবাদ ও দক্ষিণ চরাদীসহ অন্তত পাঁচটি গ্রামের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই সেতু ব্যবহার করে চরাদী বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস এবং আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের দীর্ঘ বিকল্প পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা সময় ও যাতায়াত ব্যয় দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে।
চরাদী গ্রামের বাসিন্দা কালাম হাওলাদার বলেন, এই সেতুটি এলাকার মানুষের জীবনরেখা ছিল। বাল্কহেডের বেপরোয়া চলাচলের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত সেতুটি মেরামত না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হাসনাইন আহমেদ বলেন, বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুর লোহার পিলার বেঁকে গিয়ে কংক্রিটের স্ল্যাব নিচে নেমে গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনলাইন ডেক্স 





















