ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ ৩.২ কেজি চাল ও ২৮ টাকা

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৮:৩০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • ২০০ Time View

দেশের সাতটি জেলায় টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ফলে বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ৫৮টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৫১ জনের মৃত্যু এবং ৩৯ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, এই সাত জেলায় মোট ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। বর্তমানে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চট্টগ্রামে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং কক্সবাজারে ২৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

গত ৬ দিনে (৭ থেকে ১২ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বন্যাকবলিত অঞ্চলের জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় এই বরাদ্দ যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিপ্রতি নগদ বরাদ্দ মাত্র ২৮ টাকা এবং মাথাপিছু চাল বরাদ্দ ৩.২ কেজি।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চাল ও নগদ অর্থের পাশাপাশি শুকনা খাবার এবং ঢেউটিন বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি ব্যাপক পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাঙামাটিতে দুর্যোগের প্রভাব অব্যাহত, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শন

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ ৩.২ কেজি চাল ও ২৮ টাকা

আপলোড সময় : ০৮:৩০:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

দেশের সাতটি জেলায় টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ফলে বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ৫৮টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৫১ জনের মৃত্যু এবং ৩৯ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যে বলা হয়েছে, এই সাত জেলায় মোট ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। বর্তমানে ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চট্টগ্রামে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং কক্সবাজারে ২৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

গত ৬ দিনে (৭ থেকে ১২ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বন্যাকবলিত অঞ্চলের জন্য ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় এই বরাদ্দ যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিপ্রতি নগদ বরাদ্দ মাত্র ২৮ টাকা এবং মাথাপিছু চাল বরাদ্দ ৩.২ কেজি।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চাল ও নগদ অর্থের পাশাপাশি শুকনা খাবার এবং ঢেউটিন বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি ব্যাপক পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন