বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎপাদনের পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য মূল্যস্ফীতির মূল সমস্যা উৎপাদনে নয়, বরং উৎপাদন-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে খাদ্য নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন জানিয়েছেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও বাজারমুখী খাতে রূপান্তর করা হচ্ছে। উন্নত বীজ, যান্ত্রিকীকরণ এবং উৎপাদন-পরবর্তী অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সরকারের উদ্যোগে আধুনিক কোল্ড-চেইন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চের চেয়ারম্যান সাকিফ শামীম জানান, খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পুরো ভ্যালু চেইনের আধুনিকায়ন প্রয়োজন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিএসইআর-এর মতে, দেশে উৎপাদিত খাদ্যপণ্য বাজারে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়, যা কৃষক ও ভোক্তাদের জন্য ক্ষতিকর।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক নীতি সহায়তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে এসব খাত দেশের অর্থনীতির নতুন ইঞ্জিনে পরিণত হতে পারে।
সিএসইআর মনে করে, ব্লু ইকোনমিকে আগামী দশকের কৌশলগত প্রবৃদ্ধির খাত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। খাদ্য নিরাপত্তা ও মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে কৃষি ও মৎস্য খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং রপ্তানিমুখী অর্থনৈতিক খাতে রূপান্তর করতে হবে।
অনলাইন ডেক্স 




















