ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোটের আগে চাঙা রেমিট্যান্স, জানুয়ারিতে এলো ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১০:১৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩১৪ Time View

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে বেশি বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এসেছে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। একক মাস হিসেবে এ অঙ্ক দেশে তৃতীয় সর্বোচ্চ। 

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচন ও রমজানকে কেন্দ্র করে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটানো এবং দেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ে প্রবাসীদের মধ্যে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২২ কোটি ডলার, যা একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় ৩২৯ কোটি ডলার ছিল গত বছরের মার্চে। তখন ঈদুল ফিতরের সময় প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫ সালে দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের প্রায় সমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স এসেছে জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসাও কমেছে। পাশাপাশি, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার কারণে বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট এক হাজার ৯৪৪ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৫৯৬ কোটি মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২৮ বিলিয়ন ডলার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যুবলীগ নেতাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিলেন সমর্থকরা

ভোটের আগে চাঙা রেমিট্যান্স, জানুয়ারিতে এলো ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার

আপলোড সময় : ১০:১৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে বেশি বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে এসেছে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। একক মাস হিসেবে এ অঙ্ক দেশে তৃতীয় সর্বোচ্চ। 

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচন ও রমজানকে কেন্দ্র করে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটানো এবং দেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ে প্রবাসীদের মধ্যে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২২ কোটি ডলার, যা একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় ৩২৯ কোটি ডলার ছিল গত বছরের মার্চে। তখন ঈদুল ফিতরের সময় প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫ সালে দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের প্রায় সমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স এসেছে জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসাও কমেছে। পাশাপাশি, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার কারণে বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট এক হাজার ৯৪৪ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৫৯৬ কোটি মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২৮ বিলিয়ন ডলার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন