ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুঠিয়ার পাইকপাড়া ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে দালাল চক্রের কার্যক্রম

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৩:২৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • ২০২ Time View

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সুফি এবরার আহমেদ বকসী একটি শক্তিশালী দালাল চক্রের মাধ্যমে জমি সংক্রান্ত সেবা প্রদান করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাধারণ মানুষকে মাসের পর মাস হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, অথচ দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিলে দ্রুত সেবা পাওয়া যাচ্ছে।

অফিসের অভ্যন্তরে আফান ও দলিল লেখক তাহের আলী নামের দুই দালাল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র নিয়ে কাজ করছেন। স্থানীয় ভুক্তভোগী সারোয়ার হোসেন জিম ও আব্দুল মালেক জানান, "এই ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবামূলক কাজ হয় না।" তারা অভিযোগ করেন যে, সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও দালালদের মাধ্যমে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

অপর এক ভুক্তভোগী কালাম হোসেন জানান, জমির তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অফিস সহায়ক রহিমা খাতুন ও রতন কুমার রাম এক হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। নামজারির জন্য আবেদন করার পর তহশিলদার সুফি এবরার আহমেদ বকসী প্রতি নামজারির জন্য ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা নিচ্ছেন, যদিও জাকির হোসেন নামের একজন বহিরাগত দালাল অফিসে উপস্থিত থেকে কাজ সম্পন্ন করছেন।

সুফি এবরার আহমেদ বকসী নিজের অনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন, তবে অফিসে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, "আমার অফিসে দুজন সহকারী রয়েছে। তাদের ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।" এর আগে তার বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মহিনুল হাসান জানান, তার কাছে এরকম কোনো অভিযোগ নেই, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে

পুঠিয়ার পাইকপাড়া ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে দালাল চক্রের কার্যক্রম

আপলোড সময় : ০৩:২৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সুফি এবরার আহমেদ বকসী একটি শক্তিশালী দালাল চক্রের মাধ্যমে জমি সংক্রান্ত সেবা প্রদান করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাধারণ মানুষকে মাসের পর মাস হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, অথচ দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিলে দ্রুত সেবা পাওয়া যাচ্ছে।

অফিসের অভ্যন্তরে আফান ও দলিল লেখক তাহের আলী নামের দুই দালাল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র নিয়ে কাজ করছেন। স্থানীয় ভুক্তভোগী সারোয়ার হোসেন জিম ও আব্দুল মালেক জানান, "এই ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবামূলক কাজ হয় না।" তারা অভিযোগ করেন যে, সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও দালালদের মাধ্যমে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

অপর এক ভুক্তভোগী কালাম হোসেন জানান, জমির তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অফিস সহায়ক রহিমা খাতুন ও রতন কুমার রাম এক হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। নামজারির জন্য আবেদন করার পর তহশিলদার সুফি এবরার আহমেদ বকসী প্রতি নামজারির জন্য ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা নিচ্ছেন, যদিও জাকির হোসেন নামের একজন বহিরাগত দালাল অফিসে উপস্থিত থেকে কাজ সম্পন্ন করছেন।

সুফি এবরার আহমেদ বকসী নিজের অনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন, তবে অফিসে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, "আমার অফিসে দুজন সহকারী রয়েছে। তাদের ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।" এর আগে তার বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি ব্যক্তিমালিকানায় পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মহিনুল হাসান জানান, তার কাছে এরকম কোনো অভিযোগ নেই, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন