ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেক্সিকোতে সেনা অভিযানে শীর্ষ মাদক গ্যাংলিডারসহ ৭ জন নিহত

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২:২২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩০৯ Time View

মেক্সিকোতে বিশেষ সেনা অভিযানে নিহত হয়েছেন দেশটির অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক পাচারকারী গ্যাং নিউজ জেনারেশন জালিস্কো কার্টেল (সিজিএনজি)-এর প্রধান নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা কেরভান্তেস (৫৯)। তিনি ‘এল মেঞ্চো’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

গতকাল রোববার জালিস্কো রাজ্যের টাপালপা শহরে অভিযানরত সেনা-সদস্যদের সঙ্গে ব্যাপক বন্দুকযুদ্ধ হয় কেরভান্তেস ওরফে এল মেঞ্চো এবং তার নেতৃত্বাধীন গ্যাং সিজিএনজির। এই যুদ্ধে নিহত হয়েছেন এল মেঞ্চোসহ তার গ্যাং-এর ৭ জন।

মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আজ রোববার জালিস্কো রাজ্যের টাপালপা শহরে পরিচালিত সেনা অভিযানের সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সিজিএনজি অপরাধী গ্যাংয়ের চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং গ্যাংলিডার নেমেসিও রুবেন ওসেগেুয়েরা কেরভান্তেস ওরফে এল মেঞ্চোসহ ৩ জন গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় হেলিকপ্টারে তাকে মেক্সিকো সিটিতে নিয়ে আসার সময় কপ্টারেই তার মৃত্যু ঘটে।

মেক্সিকোর জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর থেকে প্রদান করা অনুমতির ভিত্তিতে সংঘটিত এ অভিযান পরিচালনা করেছে মেক্সিকোর সেনাবাহিনীর ন্যাশনাল গার্ড ডিভিশনের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত স্পেশাল ফোর্স। এল মেঞ্চো ও তার গ্যাংয়ের সদস্যদের গুলিতে স্পেশাল ফোর্সের তিন সদস্যও আহত হয়েছেন। তাদের বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

৫৯ বছর বয়সী ওসেগুয়েরা কেরভান্তেস ওরফে এল মেঞ্চো রীতিমতো মেক্সিকোর ত্রাস ছিলেন। এক সময়ের পুলিশ কর্মকর্তা এবং অ্যাভোকোডো চাষী থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন মেস্কিকোর শীর্ষ অপরাধীদের একজন।

ওসেগুয়েরো কেরভান্তেসের ওরফে এল মেঞ্চো’র জন্ম মেক্সিকোতে; তরুণ বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন এবং সেখানেই স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার, কিন্তু তার বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ায় হেরোইনের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ ওঠে এবং ১৯৯৪ সালে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর ৩ বছর মার্কিন কারাগারে ছিলেন তিনি।

তিন বছর কারাবাসের পর মার্কিন সরকার তাকে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। দেশে ফিরে আসার পর স্থানীয় পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন কেরভান্তেস। এ সময়েই মাদক পাচারকারী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ইগনাসিও করোনেল ভিল্লারেল ওরফে ‘নাচো করোনেল’-এর সঙ্গে পরিচয় ও বন্ধুত্ব তৈরি হয় তার।

২০০৬ সালে মারা যান ‘নাচো করোনেল’; করোনেলের মৃত্যুর পর তার বিশ্বস্ত অনুচর এরিক ভ্যালেন্সিয়া সালাজারে ওরফে ‘এআই ৮৫’-এর সঙ্গে মিলে ২০০৭ সালে সিজেএনজি গ্যাংয়ের প্রতিষ্ঠা করেন এল মেঞ্চো।

কেরভান্তেস নিজেকে ঘিরে এক রহস্যময় বলয় তৈরি করেছিলেন। তার বেশি ছবি পাওয়া যায় না। অল্প যে কয়েকটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো কয়েক দশক আগের।

তবে কেরভান্তেন সিজেএনজি গ্যাংয়ের সর্বময় কর্তৃত্বে ছিলেন তিনি এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ গোয়েন্তা বিভাগ এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কেরভান্তেস ছিলেন মেক্সিকোর মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতক আসামি এবং সিজেএনজিকে তিনি মেক্সিকোর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও দুর্ধর্ষ গ্যাং হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে চোরাই পথে যত কোকেন, হেরোইন, মেথাম্ফেটামিন এসেছে, তার বেশিরভাগই এসেছে সিজেএনজি গ্যাংয়ের তত্ত্বাবধানে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তার মাথার দাম ১ কোটি ৫০ লখ ডলার ঘোষণা করেছিল, আর মেক্সিকোর সরকার ঘোষণা করেছিল ৩০ কোটি পেসো (মেক্সিকোর মুদ্রা।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, আলজাজিরা

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

mostbet və qanunun sərhədləri – cəsarətli baxış

মেক্সিকোতে সেনা অভিযানে শীর্ষ মাদক গ্যাংলিডারসহ ৭ জন নিহত

আপলোড সময় : ১২:২২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মেক্সিকোতে বিশেষ সেনা অভিযানে নিহত হয়েছেন দেশটির অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক পাচারকারী গ্যাং নিউজ জেনারেশন জালিস্কো কার্টেল (সিজিএনজি)-এর প্রধান নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা কেরভান্তেস (৫৯)। তিনি ‘এল মেঞ্চো’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

গতকাল রোববার জালিস্কো রাজ্যের টাপালপা শহরে অভিযানরত সেনা-সদস্যদের সঙ্গে ব্যাপক বন্দুকযুদ্ধ হয় কেরভান্তেস ওরফে এল মেঞ্চো এবং তার নেতৃত্বাধীন গ্যাং সিজিএনজির। এই যুদ্ধে নিহত হয়েছেন এল মেঞ্চোসহ তার গ্যাং-এর ৭ জন।

মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আজ রোববার জালিস্কো রাজ্যের টাপালপা শহরে পরিচালিত সেনা অভিযানের সময় সেনাসদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সিজিএনজি অপরাধী গ্যাংয়ের চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং গ্যাংলিডার নেমেসিও রুবেন ওসেগেুয়েরা কেরভান্তেস ওরফে এল মেঞ্চোসহ ৩ জন গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় হেলিকপ্টারে তাকে মেক্সিকো সিটিতে নিয়ে আসার সময় কপ্টারেই তার মৃত্যু ঘটে।

মেক্সিকোর জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর থেকে প্রদান করা অনুমতির ভিত্তিতে সংঘটিত এ অভিযান পরিচালনা করেছে মেক্সিকোর সেনাবাহিনীর ন্যাশনাল গার্ড ডিভিশনের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত স্পেশাল ফোর্স। এল মেঞ্চো ও তার গ্যাংয়ের সদস্যদের গুলিতে স্পেশাল ফোর্সের তিন সদস্যও আহত হয়েছেন। তাদের বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

৫৯ বছর বয়সী ওসেগুয়েরা কেরভান্তেস ওরফে এল মেঞ্চো রীতিমতো মেক্সিকোর ত্রাস ছিলেন। এক সময়ের পুলিশ কর্মকর্তা এবং অ্যাভোকোডো চাষী থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন মেস্কিকোর শীর্ষ অপরাধীদের একজন।

ওসেগুয়েরো কেরভান্তেসের ওরফে এল মেঞ্চো’র জন্ম মেক্সিকোতে; তরুণ বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন এবং সেখানেই স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার, কিন্তু তার বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ায় হেরোইনের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ ওঠে এবং ১৯৯৪ সালে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর ৩ বছর মার্কিন কারাগারে ছিলেন তিনি।

তিন বছর কারাবাসের পর মার্কিন সরকার তাকে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। দেশে ফিরে আসার পর স্থানীয় পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন কেরভান্তেস। এ সময়েই মাদক পাচারকারী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ইগনাসিও করোনেল ভিল্লারেল ওরফে ‘নাচো করোনেল’-এর সঙ্গে পরিচয় ও বন্ধুত্ব তৈরি হয় তার।

২০০৬ সালে মারা যান ‘নাচো করোনেল’; করোনেলের মৃত্যুর পর তার বিশ্বস্ত অনুচর এরিক ভ্যালেন্সিয়া সালাজারে ওরফে ‘এআই ৮৫’-এর সঙ্গে মিলে ২০০৭ সালে সিজেএনজি গ্যাংয়ের প্রতিষ্ঠা করেন এল মেঞ্চো।

কেরভান্তেস নিজেকে ঘিরে এক রহস্যময় বলয় তৈরি করেছিলেন। তার বেশি ছবি পাওয়া যায় না। অল্প যে কয়েকটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো কয়েক দশক আগের।

তবে কেরভান্তেন সিজেএনজি গ্যাংয়ের সর্বময় কর্তৃত্বে ছিলেন তিনি এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ গোয়েন্তা বিভাগ এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কেরভান্তেস ছিলেন মেক্সিকোর মোস্ট ওয়ান্টেড পলাতক আসামি এবং সিজেএনজিকে তিনি মেক্সিকোর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও দুর্ধর্ষ গ্যাং হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে চোরাই পথে যত কোকেন, হেরোইন, মেথাম্ফেটামিন এসেছে, তার বেশিরভাগই এসেছে সিজেএনজি গ্যাংয়ের তত্ত্বাবধানে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তার মাথার দাম ১ কোটি ৫০ লখ ডলার ঘোষণা করেছিল, আর মেক্সিকোর সরকার ঘোষণা করেছিল ৩০ কোটি পেসো (মেক্সিকোর মুদ্রা।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, আলজাজিরা

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন