চিকিৎসকদের বৈষম্য রোধে সচেতনতা — চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কোনো মেধাবী ও যোগ্য চিকিৎসক যেন বঞ্চনা বা বৈষম্যের শিকার না হন। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধাই তাঁর মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর প্রদান ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, চমেক হাসপাতাল শাখা আয়োজন করে।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, পরমতসহিষ্ণুতা, গণতান্ত্রিক অধিকার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার পরিবর্তন হলেও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন যেন থেমে না যায়।
তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলোতে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
চসিক প্রশাসক বলেন, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের জীবন রক্ষায় অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের এ উদ্যোগকে মহৎ ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগেও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. তসলিম উদ্দিন, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ, ড্যাব চমেক শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়েজুর রহমান, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী এবং ড্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ডা. ইফতেখারুল ইসলাম।
এদিকে, বান্দরবানে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো স্বাবলম্বী পরিবার এবং সবার আগে বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক দুর্দশা লাঘবে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৬৭ সালে তাঁর প্রয়াত বাবা অংশুই প্রু বান্দরবানে প্রথম সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে সদস্যসংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজারে উন্নীত হয়েছে।
সাচিং প্রু বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে স্থায়ী অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে নতুন নতুন আয়ের উৎস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে রুমা ও থানচি উপজেলাকে কফি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী উল্লেখ করে চাষিদের পানির সমস্যা সমাধানে রুমায় ৫ হাজার লিটার পানি সরবরাহের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষ উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি সমবায় বিভাগকে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে প্রকল্প গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেন।
সাচিং প্রু তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী ‘করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির বান্দরবান গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনলাইন ডেক্স 

























