ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমাদাবি পরিশোধের চতুর্থ ধাপে ৫৯৭২ গ্রাহক পাচ্ছেন ২০ কোটি টাকা

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১১:০৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • ২০২ Time View

বিমাদাবি পরিশোধের চতুর্থ ধাপে — দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বিমাদাবি পরিশোধের উদ্যোগের চতুর্থ ধাপে রোববার (৮ নভেম্বর) ৫ হাজার ৯৭২ জন পলিসিধারীকে ২০ কোটি ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৮ টাকা পরিশোধ করা হবে। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) জানিয়েছে, পাঁচটি বিমা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের জন্য এ অর্থ ছাড় করা হচ্ছে।

এ উদ্যোগটি দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন থাকা বৈধ বিমাদাবি নিষ্পত্তির ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ। আইডিআরএ আশা করছে, এর মাধ্যমে গ্রাহকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রমে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হবে।

আইডিআরএর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পলিসিধারীরা। প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ৭৪ জন গ্রাহককে ৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩ হাজার ১৬৩ জন গ্রাহক পাবেন ৫ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার ৭০৭ টাকা।

পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ হাজার ৩৫০ জন পলিসিধারীকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হবে। প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩৪৪ জন গ্রাহক পাবেন ১ কোটি ৬৬ লাখ ৮১ হাজার ৬০১ টাকা। অন্যদিকে, বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪১ জন পলিসিধারী পাবেন ৭ লাখ টাকা।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বৈধ দাবিগুলো নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটি গ্রাহকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিমা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বিমা খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

দেশের জীবন বীমা খাতে প্রিমিয়াম আয়ের দিক থেকে দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটি ৫৭৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে। তবে দেশি-বিদেশি সব জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রিমিয়াম আয় করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ।

আইডিআরএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৩৪টি জীবন বীমা কোম্পানির সম্মিলিত প্রিমিয়াম আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৬১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে নতুন পলিসি থেকে প্রথম বছরের প্রিমিয়াম এসেছে ৮১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

আলোচ্য সময়ে সর্বোচ্চ ৯৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ। এরপর রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ২৬১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স সংগ্রহ করেছে ২৫৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রিমিয়াম আয় ২ হাজার ২৯৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যা ৩৪টি কোম্পানির মোট আয়ের ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু মেটলাইফ ও ন্যাশনাল লাইফের সংগ্রহ ১ হাজার ০৫৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ জীবন বীমা খাতের মোট প্রিমিয়াম আয়ের প্রায় ৪৮ শতাংশই এসেছে এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকে।

এদিকে নতুন বীমা পলিসির প্রথম বছরের প্রিমিয়াম সংগ্রহেও দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি এ খাত থেকে আয় করেছে ১৬৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে, মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ১৮১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

ব্যবসায়িক সাফল্যের বিষয়ে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাজিম উদ্দিন বলেন, নির্ধারিত সময়ে বীমা দাবি নিষ্পত্তি এবং লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই আস্থাই কোম্পানির ব্যবসা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয়ের হিসাবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল লাইফের পর রয়েছে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির আয় ৮৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া, ডেল্টা লাইফের ৫৯ কোটি ৮৪ লাখ, গার্ডিয়ান লাইফের ৪৯ কোটি ৬৯ লাখ এবং প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

একই সময়ে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রথম বছরের প্রিমিয়াম হিসেবে সংগ্রহ করেছে ৩৮ কোটি টাকা। আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় ৩১ কোটি ১৭ লাখ, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৭ কোটি ৮০ লাখ এবং জীবন বীমা করপোরেশনের ২০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাইনানের পর্যটন ও উন্নয়নে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকর্মীদের সফর

বিমাদাবি পরিশোধের চতুর্থ ধাপে ৫৯৭২ গ্রাহক পাচ্ছেন ২০ কোটি টাকা

আপলোড সময় : ১১:০৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বিমাদাবি পরিশোধের চতুর্থ ধাপে — দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বিমাদাবি পরিশোধের উদ্যোগের চতুর্থ ধাপে রোববার (৮ নভেম্বর) ৫ হাজার ৯৭২ জন পলিসিধারীকে ২০ কোটি ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৮ টাকা পরিশোধ করা হবে। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) জানিয়েছে, পাঁচটি বিমা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের জন্য এ অর্থ ছাড় করা হচ্ছে।

এ উদ্যোগটি দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন থাকা বৈধ বিমাদাবি নিষ্পত্তির ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ। আইডিআরএ আশা করছে, এর মাধ্যমে গ্রাহকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রমে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হবে।

আইডিআরএর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পলিসিধারীরা। প্রতিষ্ঠানটির ১ হাজার ৭৪ জন গ্রাহককে ৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩ হাজার ১৬৩ জন গ্রাহক পাবেন ৫ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার ৭০৭ টাকা।

পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১ হাজার ৩৫০ জন পলিসিধারীকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হবে। প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩৪৪ জন গ্রাহক পাবেন ১ কোটি ৬৬ লাখ ৮১ হাজার ৬০১ টাকা। অন্যদিকে, বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪১ জন পলিসিধারী পাবেন ৭ লাখ টাকা।

বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বৈধ দাবিগুলো নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটি গ্রাহকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিমা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বিমা খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

দেশের জীবন বীমা খাতে প্রিমিয়াম আয়ের দিক থেকে দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কোম্পানিটি ৫৭৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে। তবে দেশি-বিদেশি সব জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রিমিয়াম আয় করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ।

আইডিআরএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৩৪টি জীবন বীমা কোম্পানির সম্মিলিত প্রিমিয়াম আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৬১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে নতুন পলিসি থেকে প্রথম বছরের প্রিমিয়াম এসেছে ৮১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

আলোচ্য সময়ে সর্বোচ্চ ৯৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ। এরপর রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ২৬১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে থাকা গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স সংগ্রহ করেছে ২৫৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রিমিয়াম আয় ২ হাজার ২৯৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যা ৩৪টি কোম্পানির মোট আয়ের ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু মেটলাইফ ও ন্যাশনাল লাইফের সংগ্রহ ১ হাজার ০৫৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ জীবন বীমা খাতের মোট প্রিমিয়াম আয়ের প্রায় ৪৮ শতাংশই এসেছে এই দুই প্রতিষ্ঠান থেকে।

এদিকে নতুন বীমা পলিসির প্রথম বছরের প্রিমিয়াম সংগ্রহেও দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে ন্যাশনাল লাইফ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি এ খাত থেকে আয় করেছে ১৬৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে, মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ১৮১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

ব্যবসায়িক সাফল্যের বিষয়ে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাজিম উদ্দিন বলেন, নির্ধারিত সময়ে বীমা দাবি নিষ্পত্তি এবং লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই আস্থাই কোম্পানির ব্যবসা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রথম বছরের প্রিমিয়াম আয়ের হিসাবে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল লাইফের পর রয়েছে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির আয় ৮৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া, ডেল্টা লাইফের ৫৯ কোটি ৮৪ লাখ, গার্ডিয়ান লাইফের ৪৯ কোটি ৬৯ লাখ এবং প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

একই সময়ে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রথম বছরের প্রিমিয়াম হিসেবে সংগ্রহ করেছে ৩৮ কোটি টাকা। আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আয় ৩১ কোটি ১৭ লাখ, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৭ কোটি ৮০ লাখ এবং জীবন বীমা করপোরেশনের ২০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন