যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে নাসডাকের উত্থান — যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে প্রযুক্তিনির্ভর সূচক নাসডাক বৃহস্পতিবারের বড় দরপতনের পর শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ১৮ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতনের পর শুক্রবার নাসডাক সূচক ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ২৪ হাজার ৫৭৯ দশমিক ৪২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। তবে, এই উত্থানের পরও নাসডাক টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো সাপ্তাহিক লোকসান থেকে বের হতে পারেনি।
বার্তা সংস্থা সিএনবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার লেনদেন শেষে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৩৭৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ২৩৭ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ কমে ৫১ হাজার ২৮৫ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে নেমেছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে পুঁজিবাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে সম্ভাব্য ধীরগতির আশঙ্কায় প্রযুক্তি ও অর্ধপরিবাহী চিপ নির্মাতা কোম্পানির শেয়ারে বড় দরপতন ঘটে।
বৃহস্পতিবার নাসডাক কম্পোজিট সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ডাও জোন্স ১ হাজার ৮০০ পয়েন্টের বেশি বা ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যায়। ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এক দিনে তিনটি সূচকের এটিই ছিল সবচেয়ে বড় পতন।
শুক্রবার নাসডাকের উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ার। মাইক্রোন টেকনোলজির শেয়ার আগের দিন ১৭ শতাংশ দর হারানোর পর প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এনভিডিয়ার শেয়ার বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারের দর কমেছিল ৯ শতাংশ।
এছাড়া, টেসলা, মেটা প্ল্যাটফর্মস ও অ্যালফাবেটের শেয়ারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। তবে বৃহস্পতিবারের দরপতনে যুক্তরাষ্ট্রের সাত বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানি বা ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’-এর সম্মিলিত বাজার মূলধন থেকে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার কমে যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে অল্প কয়েকটি বড় প্রযুক্তি ও চিপ নির্মাতা কোম্পানির প্রভাব অনেক বেশি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বড় দরপতন হলে সামগ্রিক বাজারেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের দাবি জোরালো হয়েছে। টেক্সাসের নবনির্বাচিত গভর্নর জিনা হিনোজোসাসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা নতুন সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, রাজনৈতিক চাপ থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ ও অবকাঠামো নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। যদিও স্বল্পমেয়াদে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরে দেশটিতে নতুন করে ১ লাখ ৬৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। একই সময়ে বেকারত্বের হার কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তবে পুরো সপ্তাহের হিসাবে তিনটি প্রধান সূচকই লোকসানে ছিল। সপ্তাহজুড়ে নাসডাকের পতন হয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ডাও জোন্সের দরপতন হয়েছে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ।
নাসডাকের অতীত সংশোধনমূলক দরপতনের ইতিহাসে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদে বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
অনলাইন ডেক্স 























