ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং খাতের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৯:৪০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • ২০২ Time View

বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং খাতের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর ব্র্যাক ইন-এর সেমিনার কক্ষে ‘প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং খাতের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা’ বিষয়ক এক সেমিনারে বক্তারা এই আহ্বান জানান।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন অ্যালাইড ফাইন্যান্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কান্তি কুমার শাহার, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির শাকিল আহমেদ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা (সিসিও) জিশান কিংশুক হক এবং উপায়ের শাকিল। তাঁরা প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান বিভিন্ন পণ্য ও সেবার সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরেন।

সেমিনারে বক্তব্য দেন ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জের পরিচালক দেবাশীষ রায়। তিনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন আর্থিক পণ্য ও সেবা তাঁদের কাছে আরও দৃশ্যমান, সহজলভ্য ও ব্যবহারোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্র্যাকের ডিজঅ্যাবিলিটি ইনক্লুশন প্রোগ্রামের প্রধান জাহিদুল কবির এবং বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিজঅ্যাবিলিটি নেটওয়ার্কের পরিচালক আজিজা আহমেদ এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং দায়িত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে তাঁদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অ্যালাইড ফাইন্যান্সের সৈয়দ এ. জে. রিজভী বিশেষ জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাংকিং সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ইতোমধ্যে নেওয়া ব্যাংকিং সহায়তার উদ্যোগ সম্পর্কে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “ব্যাংকিংয়ের সব নিয়মকানুন অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। তবে সেই কাঠামোর মধ্যেই আমরা নমনীয় হতে পারি এবং আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারি। এটি অবশ্যই সম্ভব।”

সেরিব্রাল পালসি ফাউন্ডেশনের বাপ্পী সরকার জানান, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় তাঁরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন। তিনি বলেন, “অর্থবহ পরিবর্তন আনতে চাইলে আমাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে।”

সেমিনারে উদ্যোক্তাদের পক্ষে বক্তব্য দেন আহোনা রন্ধনশালার প্রতিষ্ঠাতা শর্মি রায়। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দয়া বা সহানুভূতির ওপর নির্ভরশীল না রেখে তাঁদের স্বনির্ভর ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি সব নিয়মকানুন অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি এবং ব্যাংকগুলোকে বেশ সহযোগিতাপরায়ণ হিসেবে পেয়েছি। ব্যাংকগুলো যদি কিছু ছাড় দিতে চায়, সেটি তাদের নীতিমালা ও বিবেচনার আওতায় থাকা উচিত। আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো কীভাবে এবং কোথায় ঋণ ও অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধার জন্য আবেদন করতে হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া।”

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আফসান চৌধুরী। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের প্রচলিত নিয়মকানুনের মধ্যেই এ জনগোষ্ঠীর জন্য পূর্ণ সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারের শেষ পর্যায়ে প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও সুস্পষ্ট করার লক্ষ্যে একটি নির্দেশিকামূলক নথি প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে ব্যাংকিং সুবিধার জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং কী প্রক্রিয়ায় ঋণসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বক্তারা মনে করেন, ব্যাংকিং খাতের কার্যকর সহযোগিতা, সহজলভ্য আর্থিক সেবা এবং প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের লিড

প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং খাতের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান

আপলোড সময় : ০৯:৪০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং খাতের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর ব্র্যাক ইন-এর সেমিনার কক্ষে ‘প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং খাতের আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা’ বিষয়ক এক সেমিনারে বক্তারা এই আহ্বান জানান।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন অ্যালাইড ফাইন্যান্স পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কান্তি কুমার শাহার, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির শাকিল আহমেদ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা (সিসিও) জিশান কিংশুক হক এবং উপায়ের শাকিল। তাঁরা প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান বিভিন্ন পণ্য ও সেবার সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরেন।

সেমিনারে বক্তব্য দেন ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জের পরিচালক দেবাশীষ রায়। তিনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন আর্থিক পণ্য ও সেবা তাঁদের কাছে আরও দৃশ্যমান, সহজলভ্য ও ব্যবহারোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্র্যাকের ডিজঅ্যাবিলিটি ইনক্লুশন প্রোগ্রামের প্রধান জাহিদুল কবির এবং বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিজঅ্যাবিলিটি নেটওয়ার্কের পরিচালক আজিজা আহমেদ এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং দায়িত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়নে তাঁদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অ্যালাইড ফাইন্যান্সের সৈয়দ এ. জে. রিজভী বিশেষ জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যাংকিং সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য ইতোমধ্যে নেওয়া ব্যাংকিং সহায়তার উদ্যোগ সম্পর্কে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “ব্যাংকিংয়ের সব নিয়মকানুন অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। তবে সেই কাঠামোর মধ্যেই আমরা নমনীয় হতে পারি এবং আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারি। এটি অবশ্যই সম্ভব।”

সেরিব্রাল পালসি ফাউন্ডেশনের বাপ্পী সরকার জানান, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় তাঁরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন। তিনি বলেন, “অর্থবহ পরিবর্তন আনতে চাইলে আমাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে।”

সেমিনারে উদ্যোক্তাদের পক্ষে বক্তব্য দেন আহোনা রন্ধনশালার প্রতিষ্ঠাতা শর্মি রায়। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দয়া বা সহানুভূতির ওপর নির্ভরশীল না রেখে তাঁদের স্বনির্ভর ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি সব নিয়মকানুন অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি এবং ব্যাংকগুলোকে বেশ সহযোগিতাপরায়ণ হিসেবে পেয়েছি। ব্যাংকগুলো যদি কিছু ছাড় দিতে চায়, সেটি তাদের নীতিমালা ও বিবেচনার আওতায় থাকা উচিত। আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো কীভাবে এবং কোথায় ঋণ ও অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধার জন্য আবেদন করতে হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া।”

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আফসান চৌধুরী। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের প্রচলিত নিয়মকানুনের মধ্যেই এ জনগোষ্ঠীর জন্য পূর্ণ সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারের শেষ পর্যায়ে প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও সুস্পষ্ট করার লক্ষ্যে একটি নির্দেশিকামূলক নথি প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে ব্যাংকিং সুবিধার জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং কী প্রক্রিয়ায় ঋণসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বক্তারা মনে করেন, ব্যাংকিং খাতের কার্যকর সহযোগিতা, সহজলভ্য আর্থিক সেবা এবং প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন