মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে বিশ্বের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা জড়ো হচ্ছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনের আগের দিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের এই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংও যোগ দিচ্ছেন।
বিশ্বরাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি, বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবারের ব্রিকস সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়। সম্মেলনের আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের কারণে ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি ব্রিকসকে একতরফা আধিপত্যবাদের বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সদস্য দেশগুলোর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
মোদি ও পুতিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এটি পুতিনের দ্বিতীয় দিল্লি সফর, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ ভারত সফরের পর। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে বিবেচিত। মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় বলেন, ‘সবার সঙ্গে নয়, শুধু সজ্জন ও গুণীজনের সঙ্গেই বন্ধুত্ব ও আলোচনা করা উচিত।’
এদিকে, সি চিন পিংয়ের সফরের বিরোধিতা করে নয়াদিল্লিতে কিছু নির্বাসিত তিব্বতি বিক্ষোভ করেছেন। তাঁরা তিব্বতে চীনের নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। ব্রিকস সম্প্রসারণের পর সদস্যসংখ্যা বেড়েছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতের কূটনৈতিক ভারসাম্য এবারের সম্মেলনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত একদিকে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদারত্ব ধরে রেখেছে। নয়াদিল্লিতে সম্মেলনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, যেখানে বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।
অনলাইন ডেক্স 
























