ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রায় ৮ হাজার আবেদন থেকে ২৬ ব্যবসা নির্বাচিত হলো ‘অন্যরকম উদ্যোক্তা’ কর্মসূচিতে

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৬:০৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ২০৫ Time View

প্রায় ৮ হাজার আবেদনের মধ্যে থেকে ‘অন্যরকম উদ্যোক্তা’ কর্মসূচির তৃতীয় কোহর্টের জন্য ২৬টি ব্যবসা নির্বাচন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ৩০০ আবেদনকারীর মধ্যে একজন এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক বৈশ্বিক থিংক ট্যাংক ও স্টার্টআপ অ্যাক্সিলারেটর লেগাসি ভেঞ্চারসের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির নাম ঘোষণা ২ নভেম্বর করা হয়। ঢাকার বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম বিশ্বাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগ।

অনুষ্ঠানে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, রিস্টার্ট ইয়োরসেলফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাভেদ পারভেজ, অনন্যর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আবদুল্লাহ, টেক কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোলেহিন ইসলাম সাগর এবং কাহাফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিনসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কোহর্ট ১ ও কোহর্ট ২-এর সাবেক অংশগ্রহণকারীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

নির্বাচিত উদ্যোক্তারা আগামী ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক সেশনে অংশ নেবেন। এসব সেশনের উদ্দেশ্য হলো উদ্যোক্তাদের ব্যবসার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং বৃহৎ পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করা।

‘অন্যরকম উদ্যোক্তা’ একটি ছয় মাসব্যাপী ব্যবসা সম্প্রসারণ কর্মসূচি, যা সম্ভাবনাময় বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা বড় করতে সহায়তা করে। এটি লেগাসি ভেঞ্চারসের একটি উদ্যোগ এবং কোহর্ট ৩.০ এ এটি তৃতীয় ব্যাচ।

লেগাসি ভেঞ্চারস একটি বৈশ্বিক থিংক ট্যাংক ও স্টার্টআপ অ্যাক্সিলারেটর, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যবোধভিত্তিক উদ্যোক্তা সংস্কৃতি উন্নয়ন করতে কাজ করছে। বাংলাদেশে ‘অন্যরকম উদ্যোক্তা’ কর্মসূচির পেছনের দলটি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, জীবনবিষয়ক প্রশিক্ষক ও ব্যবসায়িক পরামর্শকদের একত্রিত করে। এর মাধ্যমে প্রভাব সৃষ্টিকারী ও টেকসই স্টার্টআপ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে, রাজধানী ঢাকার ছয়টি পাবলিক টয়লেটের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে যৌথভাবে কাজ করবে সামাজিক প্রতিষ্ঠান ভূমিজ ও আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি। এ অংশীদারিত্বের আওতায় আইপিডিসি ছয়টি গণশৌচাগারের পরিচালন ব্যয় বহন করবে। এর ফলে টয়লেটগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সেবার মান বজায় রাখা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এ বিষয়ে এক অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেওয়া হয়। উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হলো নারী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষসহ নগরবাসীর জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগারের সুবিধা নিশ্চিত করা।

অংশীদারত্বের আওতায় রাজধানীর ছয়টি ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত পাবলিক টয়লেটের পরিচালন ব্যয় বহন করবে আইপিডিসি ফাইন্যান্স। টয়লেটগুলো হলো—মহাখালী বাস টার্মিনালের অনন্যা নারী পাবলিক টয়লেট, গুলশান-১-এর ভূমিজ পাবলিক টয়লেট, মিরপুর-১০-এর ভূমিজ যানবাহন পাবলিক টয়লেট, গাউছিয়ার নূর ম্যানশনে অবস্থিত ভূমিজ-রবীন্দ্র নারী পাবলিক টয়লেট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ চত্বরের ভূমিজ নারী পাবলিক টয়লেট এবং খিলক্ষেত বাজারের ভূমিজ খিলক্ষেত পাবলিক টয়লেট।

আইপিডিসির অর্থায়নে এসব টয়লেটের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কর্মীদের বেতন, পানি ও বিদ্যুৎ বিল, সাবান, টিস্যু, স্যানিটাইজার ও জীবাণুনাশকসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রীর খরচ বহন করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি ও ছোটখাটো মেরামতের ব্যয়ও এ অর্থায়নের আওতায় থাকবে।

উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্প চলাকালে ছয়টি পাবলিক টয়লেটে একযোগে সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্নত সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভূমিজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারহানা রশিদ, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মো. মাসুদুল ইসলাম এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্সের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) ফাহমিদা খানসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ফাহমিদা খান বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ টয়লেট অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে নারী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের সেবার প্রয়োজনীয়তা বেশি। এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে টয়লেটগুলোর সেবা যথাযথভাবে চালু রাখতে ভূমিজের পাশে থাকতে চায় আইপিডিসি। এতে ঢাকাবাসীর জীবনযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হচ্ছে, সংসদ চত্বর ধূমপানমুক্ত ঘোষণা

প্রায় ৮ হাজার আবেদন থেকে ২৬ ব্যবসা নির্বাচিত হলো ‘অন্যরকম উদ্যোক্তা’ কর্মসূচিতে

আপলোড সময় : ০৬:০৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

প্রায় ৮ হাজার আবেদনের মধ্যে থেকে ‘অন্যরকম উদ্যোক্তা’ কর্মসূচির তৃতীয় কোহর্টের জন্য ২৬টি ব্যবসা নির্বাচন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ৩০০ আবেদনকারীর মধ্যে একজন এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক বৈশ্বিক থিংক ট্যাংক ও স্টার্টআপ অ্যাক্সিলারেটর লেগাসি ভেঞ্চারসের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির নাম ঘোষণা ২ নভেম্বর করা হয়। ঢাকার বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাসির গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম বিশ্বাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগ।

অনুষ্ঠানে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, রিস্টার্ট ইয়োরসেলফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাভেদ পারভেজ, অনন্যর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আবদুল্লাহ, টেক কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোলেহিন ইসলাম সাগর এবং কাহাফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিনসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কোহর্ট ১ ও কোহর্ট ২-এর সাবেক অংশগ্রহণকারীরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

নির্বাচিত উদ্যোক্তারা আগামী ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক সেশনে অংশ নেবেন। এসব সেশনের উদ্দেশ্য হলো উদ্যোক্তাদের ব্যবসার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং বৃহৎ পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করা।

‘অন্যরকম উদ্যোক্তা’ একটি ছয় মাসব্যাপী ব্যবসা সম্প্রসারণ কর্মসূচি, যা সম্ভাবনাময় বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা বড় করতে সহায়তা করে। এটি লেগাসি ভেঞ্চারসের একটি উদ্যোগ এবং কোহর্ট ৩.০ এ এটি তৃতীয় ব্যাচ।

লেগাসি ভেঞ্চারস একটি বৈশ্বিক থিংক ট্যাংক ও স্টার্টআপ অ্যাক্সিলারেটর, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যবোধভিত্তিক উদ্যোক্তা সংস্কৃতি উন্নয়ন করতে কাজ করছে। বাংলাদেশে ‘অন্যরকম উদ্যোক্তা’ কর্মসূচির পেছনের দলটি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, জীবনবিষয়ক প্রশিক্ষক ও ব্যবসায়িক পরামর্শকদের একত্রিত করে। এর মাধ্যমে প্রভাব সৃষ্টিকারী ও টেকসই স্টার্টআপ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে, রাজধানী ঢাকার ছয়টি পাবলিক টয়লেটের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে যৌথভাবে কাজ করবে সামাজিক প্রতিষ্ঠান ভূমিজ ও আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি। এ অংশীদারিত্বের আওতায় আইপিডিসি ছয়টি গণশৌচাগারের পরিচালন ব্যয় বহন করবে। এর ফলে টয়লেটগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সেবার মান বজায় রাখা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এ বিষয়ে এক অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেওয়া হয়। উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হলো নারী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষসহ নগরবাসীর জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগারের সুবিধা নিশ্চিত করা।

অংশীদারত্বের আওতায় রাজধানীর ছয়টি ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত পাবলিক টয়লেটের পরিচালন ব্যয় বহন করবে আইপিডিসি ফাইন্যান্স। টয়লেটগুলো হলো—মহাখালী বাস টার্মিনালের অনন্যা নারী পাবলিক টয়লেট, গুলশান-১-এর ভূমিজ পাবলিক টয়লেট, মিরপুর-১০-এর ভূমিজ যানবাহন পাবলিক টয়লেট, গাউছিয়ার নূর ম্যানশনে অবস্থিত ভূমিজ-রবীন্দ্র নারী পাবলিক টয়লেট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ চত্বরের ভূমিজ নারী পাবলিক টয়লেট এবং খিলক্ষেত বাজারের ভূমিজ খিলক্ষেত পাবলিক টয়লেট।

আইপিডিসির অর্থায়নে এসব টয়লেটের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কর্মীদের বেতন, পানি ও বিদ্যুৎ বিল, সাবান, টিস্যু, স্যানিটাইজার ও জীবাণুনাশকসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রীর খরচ বহন করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি ও ছোটখাটো মেরামতের ব্যয়ও এ অর্থায়নের আওতায় থাকবে।

উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্প চলাকালে ছয়টি পাবলিক টয়লেটে একযোগে সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্নত সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভূমিজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফারহানা রশিদ, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মো. মাসুদুল ইসলাম এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্সের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) ফাহমিদা খানসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ফাহমিদা খান বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ টয়লেট অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে নারী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের সেবার প্রয়োজনীয়তা বেশি। এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে টয়লেটগুলোর সেবা যথাযথভাবে চালু রাখতে ভূমিজের পাশে থাকতে চায় আইপিডিসি। এতে ঢাকাবাসীর জীবনযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন