ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা সংকট রাজনৈতিক সমস্যা, সমাধানও রাজনৈতিকভাবে করতে হবে: আইনমন্ত্রী

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৯:১৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ২২২ Time View

রোহিঙ্গা সংকট রাজনৈতিক সমস্যা — রোহিঙ্গা সংকট একটি রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীতে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে টেকসই উদ্যোগ: জাতীয় কৌশলপত্রের রূপরেখা ও আন্তর্জাতিক অবদান’ শীর্ষক জাতীয় নীতি সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের নয়, এটি মূলত মিয়ানমারের সমস্যা। তাই এ সংকট সমাধানের দায়িত্বও মিয়ানমারকে নিতে হবে। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের নীতি সংলাপকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের ওয়াচডগ হিসেবে দিকনির্দেশনা দেবে এবং সরকার তা গ্রহণ করবে।

সংলাপে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতীয় রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এ সংকটকে আলোচনায় রাখতে হবে।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির আওতায় মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সংলাপে অন্যান্য বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে জাতীয় ঐকমত্য, সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক চাপ জোরদার করা জরুরি। বক্তারা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তারা আরও বলেন, মিয়ানমারের বিভিন্ন পক্ষ, বিশেষ করে আরাকান আর্মির সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক যোগাযোগ ও আলোচনা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বক্তারা দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য একটি কার্যকর জাতীয় শরণার্থী নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

বক্তারা রোহিঙ্গাদের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁদের নিজস্ব কণ্ঠস্বর প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে চীনসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীজনদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তাঁরা।

সংলাপের প্রথম পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান। দ্বিতীয় পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য ড. মো. মাহবুবুল হক।

আলোচনায় অংশ নেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান মো. শামসুদ্দিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক এস কে তৌফিক এম. হক, সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ড. মুস্তাক হোসেন, সাইফুল হক, নুরুল ইসলাম ও ইশরাত জাকিয়া সুলতানাসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, গবেষক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হচ্ছে, সংসদ চত্বর ধূমপানমুক্ত ঘোষণা

রোহিঙ্গা সংকট রাজনৈতিক সমস্যা, সমাধানও রাজনৈতিকভাবে করতে হবে: আইনমন্ত্রী

আপলোড সময় : ০৯:১৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকট রাজনৈতিক সমস্যা — রোহিঙ্গা সংকট একটি রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীতে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে টেকসই উদ্যোগ: জাতীয় কৌশলপত্রের রূপরেখা ও আন্তর্জাতিক অবদান’ শীর্ষক জাতীয় নীতি সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের নয়, এটি মূলত মিয়ানমারের সমস্যা। তাই এ সংকট সমাধানের দায়িত্বও মিয়ানমারকে নিতে হবে। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের নীতি সংলাপকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের ওয়াচডগ হিসেবে দিকনির্দেশনা দেবে এবং সরকার তা গ্রহণ করবে।

সংলাপে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতীয় রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এ সংকটকে আলোচনায় রাখতে হবে।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির আওতায় মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সংলাপে অন্যান্য বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে জাতীয় ঐকমত্য, সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক চাপ জোরদার করা জরুরি। বক্তারা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, স্বতন্ত্র জাতিগত পরিচয় ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তারা আরও বলেন, মিয়ানমারের বিভিন্ন পক্ষ, বিশেষ করে আরাকান আর্মির সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক যোগাযোগ ও আলোচনা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বক্তারা দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য একটি কার্যকর জাতীয় শরণার্থী নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

বক্তারা রোহিঙ্গাদের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁদের নিজস্ব কণ্ঠস্বর প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে চীনসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীজনদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তাঁরা।

সংলাপের প্রথম পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান। দ্বিতীয় পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য ড. মো. মাহবুবুল হক।

আলোচনায় অংশ নেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান মো. শামসুদ্দিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক এস কে তৌফিক এম. হক, সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ড. মুস্তাক হোসেন, সাইফুল হক, নুরুল ইসলাম ও ইশরাত জাকিয়া সুলতানাসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, গবেষক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন