ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানে জাতীয় সমবায় দিবসে স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার আহ্বান পার্বত্যমন্ত্রীর

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৫:৫১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ২০২ Time View

বান্দরবানে জাতীয় সমবায় দিবসে — বান্দরবানে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী ও বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো স্বাবলম্বী পরিবার এবং সবার আগে বাংলাদেশ গড়ে তোলা। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক দুর্দশা লাঘবে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা পরিষদ ও সমবায় অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা, চেক বিতরণ ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৬৭ সালে তাঁর প্রয়াত বাবা অংশুই প্রু বান্দরবানে প্রথম সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। ওই সমিতির সদস্যসংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার। বর্তমানে ধাপে ধাপে তা বেড়ে ৫০ হাজারে উন্নীত হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে সাচিং প্রু বলেন, স্থায়ী অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে নতুন নতুন আয়ের উৎস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৬টি উপজেলায় মাটির গুণাগুণ নিয়ে গবেষণায় কফি, কাজুবাদাম, রামবুটান, মাশরুম, চুইঝাল ও লটকন চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা গেছে।

বিশেষ করে রুমা ও থানচি উপজেলাকে কফি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাষিদের পানির সমস্যা সমাধানে রুমায় ৫ হাজার লিটার পানি সরবরাহের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনাময় লাল মাশরুম, দেশি মুরগি, গাড়ল এবং আদা, হলুদ ও জিরার মতো মসলা জাতীয় ফসল চাষে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষ উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী। এ জন্য সমবায় বিভাগকে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে প্রকল্প গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেন তিনি।

তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন সাচিং প্রু। পাশাপাশি প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

‘করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির বান্দরবান গড়ে তোলার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জেলার চারটি সমবায় সমিতিকে মোট ৯ লাখ টাকার ঘূর্ণায়মান ঋণের চেক দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচটি সমবায় সংস্থাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লুসাইমং, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা সমবায় কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম এবং বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি নাছিরুল আলমসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও সমবায় সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিকেলে মন্ত্রী শৈলশোভা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের মৃত্যু তহবিল থেকে প্রয়াত ১৯ জন শ্রমিকের পরিবারের মধ্যে নগদ অনুদান বিতরণ করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হচ্ছে, সংসদ চত্বর ধূমপানমুক্ত ঘোষণা

বান্দরবানে জাতীয় সমবায় দিবসে স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার আহ্বান পার্বত্যমন্ত্রীর

আপলোড সময় : ০৫:৫১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

বান্দরবানে জাতীয় সমবায় দিবসে — বান্দরবানে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী ও বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো স্বাবলম্বী পরিবার এবং সবার আগে বাংলাদেশ গড়ে তোলা। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক দুর্দশা লাঘবে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জেলা পরিষদ ও সমবায় অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা, চেক বিতরণ ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৬৭ সালে তাঁর প্রয়াত বাবা অংশুই প্রু বান্দরবানে প্রথম সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। ওই সমিতির সদস্যসংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার। বর্তমানে ধাপে ধাপে তা বেড়ে ৫০ হাজারে উন্নীত হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে সাচিং প্রু বলেন, স্থায়ী অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে নতুন নতুন আয়ের উৎস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৬টি উপজেলায় মাটির গুণাগুণ নিয়ে গবেষণায় কফি, কাজুবাদাম, রামবুটান, মাশরুম, চুইঝাল ও লটকন চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা গেছে।

বিশেষ করে রুমা ও থানচি উপজেলাকে কফি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাষিদের পানির সমস্যা সমাধানে রুমায় ৫ হাজার লিটার পানি সরবরাহের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনাময় লাল মাশরুম, দেশি মুরগি, গাড়ল এবং আদা, হলুদ ও জিরার মতো মসলা জাতীয় ফসল চাষে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষ উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী। এ জন্য সমবায় বিভাগকে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে প্রকল্প গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেন তিনি।

তরুণ সমাজকে মাদকের হাত থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন সাচিং প্রু। পাশাপাশি প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

‘করব সমবায়, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতির বান্দরবান গড়ে তোলার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জেলার চারটি সমবায় সমিতিকে মোট ৯ লাখ টাকার ঘূর্ণায়মান ঋণের চেক দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচটি সমবায় সংস্থাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লুসাইমং, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার, জেলা সমবায় কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম এবং বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি নাছিরুল আলমসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও সমবায় সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিকেলে মন্ত্রী শৈলশোভা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের মৃত্যু তহবিল থেকে প্রয়াত ১৯ জন শ্রমিকের পরিবারের মধ্যে নগদ অনুদান বিতরণ করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন