ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভিন্নমত দমনে গুম-খুনের অভিযোগ: চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৪:৫০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০১ Time View

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ হাসিনার নির্দেশে ভিন্নমত দমনে গুম-খুন করা হতো বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সাব্বির। তার জবানবন্দিতে ২০১০ সালে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামসহ চারজনকে অপহরণ করে হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা উঠে আসে। সাব্বির জানান, ২০১০ সালের মে মাসে পাথরঘাটার বলেশ্বর নদীতে একটি মাছ ধরার ট্রলারে করে চারজনকে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাব্বিরের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের মুখ ও শরীর কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে নদীতে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, একই কায়দায় ২০১০ সালে আরও একজনকে হত্যা করা হয় এবং ২০১১ সালে জিয়াউল আহসানের কথিত ‘গলফ অপারেশন’-এ ব্যবহৃত ট্রলারের মাঝিদের একজন আলকাস মাঝিকেও গুম করে হত্যা করা হয়।

গুমের এই মামলায় ইতোমধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভুঁইয়া, হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী সেনা কর্মকর্তা এবং র‌্যাবের কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলাটিতে এখন তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে, এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে যাবে।

গত ১৬ বছরে গুমের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম মামলা, যার বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু মোকাবেলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সহযোগিতা চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভিন্নমত দমনে গুম-খুনের অভিযোগ: চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য

আপলোড সময় : ০৪:৫০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ হাসিনার নির্দেশে ভিন্নমত দমনে গুম-খুন করা হতো বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সাব্বির। তার জবানবন্দিতে ২০১০ সালে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামসহ চারজনকে অপহরণ করে হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা উঠে আসে। সাব্বির জানান, ২০১০ সালের মে মাসে পাথরঘাটার বলেশ্বর নদীতে একটি মাছ ধরার ট্রলারে করে চারজনকে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাব্বিরের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের মুখ ও শরীর কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে নদীতে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহের পেট চিরে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, একই কায়দায় ২০১০ সালে আরও একজনকে হত্যা করা হয় এবং ২০১১ সালে জিয়াউল আহসানের কথিত ‘গলফ অপারেশন’-এ ব্যবহৃত ট্রলারের মাঝিদের একজন আলকাস মাঝিকেও গুম করে হত্যা করা হয়।

গুমের এই মামলায় ইতোমধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভুঁইয়া, হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী সেনা কর্মকর্তা এবং র‌্যাবের কর্মকর্তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলাটিতে এখন তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে, এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে যাবে।

গত ১৬ বছরে গুমের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম মামলা, যার বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন