মিথ্যা বলা কেবল একটি সামাজিক বা নৈতিক বিষয় নয়, বরং এটি শরীর ও মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অনেক মানুষ দৈনন্দিন জীবনে ছোটোখাটো মিথ্যা বলে থাকে। এই অভ্যাসটি মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
মিথ্যা বলার সময় সত্য লুকিয়ে একটি সাজানো ঘটনা তৈরি করতে মস্তিষ্ককে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে কাজ করতে হয়। এর ফলে মস্তিষ্কের আবেগ ও ভয় শনাক্ত করার সঙ্গে জড়িত অংশগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই মানসিক চাপ শরীরের বিভিন্ন অংশে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে হৃদ্যন্ত্রের ওপর।
মিথ্যা বলার সময় ধরা পড়ার ভয় বা অপরাধবোধের কারণে শরীরের ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়া সক্রিয় হয়। এর ফলে হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যায় এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
মস্তিষ্ক ও পরিপাকতন্ত্রের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা ‘গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস’ নামে পরিচিত। মানসিক চাপের কারণে পেটে মোচড়, বমি বমি ভাব বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। মানসিক অস্থিরতা অনেক সময় পেটের অসুস্থতা হিসেবে প্রকাশ পায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মিথ্যা বলার ফলে প্রথমে যে অপরাধবোধ কাজ করে, তা ধীরে ধীরে কমে আসে। এই প্রবণতা বড় ধরনের অসততার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই মন ও শরীর সুস্থ রাখতে অপ্রয়োজনীয় মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকা জরুরি। জটিল পরিস্থিতিতে সত্য প্রকাশের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
অনলাইন ডেক্স 






















