ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেবীদ্বারে মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের

  • অনলাইন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২:০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ২০২ Time View

কুমিল্লার দেবীদ্বারে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই মামলা করেন। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

মামলায় আসামি করা হয়েছে দেবীদ্বার পৌর এলাকার রমিজ মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়া (২৪) এবং আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল (২৯)। জানা গেছে, এই দুজন প্রবাসফেরত খালাতো ভাই।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা ফুলগাছতলা এলাকায় যাওয়ার সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছাত্রীটিকে অটোরিকশায় তুলে নেয় সবুজ ও ইসমাইল। পরে সবুজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এক পর্যায়ে কৌশলে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে ঘটনার বিবরণ পরিবারকে জানায় মেয়ে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান এবং স্থানীয় কিছু দালালের মাধ্যমে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। মঙ্গলবার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মেয়ে ও তার বাবা-মা ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন এবং থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবা বলেন, ‘আমি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করি, আমার স্ত্রীও তখন ঢাকায় ছিলেন। সংবাদ পেয়ে আমরা বাড়ি ফিরি। যারা আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ভুক্তভোগী মেয়েটি জানায়, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শনিবার সকালে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছতলায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে জোরপূর্বক সবুজের বাড়িতে নেওয়ার পর ঘটনাটি ঘটে এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করার পর বুধবার মেয়েটির চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এফবিআইয়ের তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্থা

দেবীদ্বারে মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের

আপলোড সময় : ১২:০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

কুমিল্লার দেবীদ্বারে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই মামলা করেন। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

মামলায় আসামি করা হয়েছে দেবীদ্বার পৌর এলাকার রমিজ মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়া (২৪) এবং আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল (২৯)। জানা গেছে, এই দুজন প্রবাসফেরত খালাতো ভাই।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা ফুলগাছতলা এলাকায় যাওয়ার সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছাত্রীটিকে অটোরিকশায় তুলে নেয় সবুজ ও ইসমাইল। পরে সবুজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এক পর্যায়ে কৌশলে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে ঘটনার বিবরণ পরিবারকে জানায় মেয়ে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান এবং স্থানীয় কিছু দালালের মাধ্যমে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। মঙ্গলবার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মেয়ে ও তার বাবা-মা ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন এবং থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবা বলেন, ‘আমি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করি, আমার স্ত্রীও তখন ঢাকায় ছিলেন। সংবাদ পেয়ে আমরা বাড়ি ফিরি। যারা আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ভুক্তভোগী মেয়েটি জানায়, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শনিবার সকালে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছতলায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে জোরপূর্বক সবুজের বাড়িতে নেওয়ার পর ঘটনাটি ঘটে এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে ক্ষতি করার হুমকিও দেওয়া হয়।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করার পর বুধবার মেয়েটির চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন